নেপালে প্রবল বৃষ্টির জেরে বিহারের বাগাহায় গণ্ডক নদীর জলস্তর ৯১.২৫ মিটারে পৌঁছে নতুন রেকর্ড গড়েছে। গণ্ডক ব্যারেজ থেকে ৫ লক্ষ ৪৩ হাজার ৫০০ কিউসেক জল ছাড়ায় একাধিক জেলা প্লাবিত, ভেঙেছে নদীবাঁধ।
নেপালে প্রবল বৃষ্টির জেরে বিহারে গণ্ডক নদীর জলস্তর এখন বিপদসীমার অনেক উপরে। বাগাহা গেজ সাইটে নদীর জলস্তর ৯১.২৫ মিটারে পৌঁছেছে, যা সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড।
জলসম্পদ দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টায় বাল্মীকিনগরের গণ্ডক ব্যারেজ থেকে ৫ লক্ষ ৪৩ হাজার ৫০০ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ জল এখন পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ, গোপালগঞ্জ, সারণ, মুজফ্ফরপুর এবং বৈশালী জেলার উপর দিয়ে বইছে। ব্যারেজ থেকে টানা ১৩ ঘণ্টা ৫ লক্ষ কিউসেকের বেশি এবং ৩২ ঘণ্টা ধরে ৪ লক্ষ কিউসেকের বেশি জল ছাড়া হয়েছে বলে ওই বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
প্রবল বৃষ্টিতে নতুন রেকর্ড
২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর গণ্ডক নদী সংলগ্ন বিহারের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে (পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ এবং গোপালগঞ্জ) ভারী বৃষ্টিপাত হয়। এর ফলে ব্যারেজের নিচের দিকের এলাকায় নদীর জলস্তর আগে থেকেই অনেকটা বেড়ে ছিল। জলসম্পদ দফতর জানিয়েছে, "২০২৪ সালে গণ্ডক ব্যারেজ থেকে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ ৬২ হাজার ৫০০ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছিল। এবার জলের পরিমাণ তার চেয়ে কিছুটা কম হলেও, বাগাহায় জলস্তর ৯১.২৫ মিটারে পৌঁছে নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। আগের রেকর্ড ছিল ৯০.৯০ মিটার (২০২৪ সালে), অর্থাৎ এবার জলস্তর ০.৩৫ মিটার বেশি।"
জলের তোড়ে ভাঙল নদীবাঁধ
গণ্ডক নদী থেকে বিপুল পরিমাণ জল ছাড়ার ফলে নদীবাঁধগুলির উপর মারাত্মক চাপ পড়ছে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু জায়গায় জল চুঁইয়ে পড়া এবং বাঁধ উপচে পড়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। তবে দ্রুত মেরামতির মাধ্যমে ১৬৯টি ক্ষতিগ্রস্ত পয়েন্ট সুরক্ষিত করা হয়েছে।
নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় ২৮-২৯ সেপ্টেম্বরের রাতে পশ্চিম চম্পারণ জেলার বাঁদিকে থাকা চম্পারণ বাঁধের দুটি জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাগাহা-১ ব্লকের খৈরতওয়া গ্রাম এবং বৈরিয়া ব্লকের ফুলিয়াখাড় গ্রামে এই ভাঙন দেখা দেয়। এছাড়া উত্তরপ্রদেশ ডিভিশনের কুশিনগর জেলায় গণ্ডক নদীর ডানদিকের একটি বাঁধও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বন্যা মোকাবিলায় তৎপর প্রশাসন
পরিস্থিতি সামাল দিতে জলসম্পদ দফতর এবং পশ্চিম চম্পারণ জেলা প্রশাসন একযোগে কাজ করছে। বাঁধগুলির উপর প্রবল চাপ থাকায় ফিল্ড ইঞ্জিনিয়াররা দিনরাত এক করে বন্যা মোকাবিলার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে রাতেই সদর দফতর থেকে এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারদের নেতৃত্বে চারটি দলকে বাগাহা, বেতিয়া, মোতিহারি এবং গোপালগঞ্জে পাঠানো হয়েছে। আচমকা জল বাড়ার আশঙ্কায় আগে থেকেই সেখানে অতিরিক্ত ইঞ্জিনিয়ার মোতায়েন করা ছিল। নদীর উপরের দিকে জলস্তর কমলেও, নিচের দিকে তা ক্রমশ বাড়ছে। ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা গোটা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছেন।


