উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে একাধিক খুন ও ডাকাতির ঘটনায় অভিযুক্ত ছিল লালন সিং। তার মাথার দাম ছিল ১.২৫ লক্ষ টাকা। অবশেষে উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরে পুলিশের সঙ্গে এনকাউন্টারে তার মৃত্যু হল। দুই সাব-ইন্সপেক্টরকে খুনের অভিযোগও ছিল তার বিরুদ্ধে।
উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর জেলায় পুলিশের সঙ্গে এনকাউন্টারে খতম হল এক কুখ্যাত দুষ্কৃতী। নাম লালন সিং ওরফে লালন। তার মাথার দাম ছিল সোয়া এক লক্ষ টাকা। পুলিশ জানিয়েছে, ২১ ও ২২ জুনের মাঝের রাতে সাহারানপুরের সারসাওয়া-নাকুড় রোডে এই এনকাউন্টার হয়। গুলির লড়াইয়ে গুরুতর জখম হয় লালন। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

দীর্ঘ অপরাধের তালিকা
পুলিশ সূত্রে খবর, লালন সিং আদতে বিহারের সমস্তিপুর জেলার আনন্দগোলওয়া গ্রামের বাসিন্দা। উত্তরপ্রদেশ ও বিহার, দুই রাজ্যেই তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর মামলা ছিল। ২০২২ সালের ৮ নভেম্বর বারাণসীতে এক সাব-ইন্সপেক্টরকে গুলি করে তাঁর সার্ভিস পিস্তল লুঠ করার মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনায় সে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ। এছাড়া, ২০২২ সালের ১ নভেম্বর চন্দৌলিতে গুলি ও ডাকাতির ঘটনাতেও তার নাম জড়ায়।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লালন তার ভাই ও সঙ্গীদের নিয়ে একাধিক নৃশংস অপরাধ ঘটিয়েছে। তার বিরুদ্ধে দুই সাব-ইন্সপেক্টর, এক ব্যাঙ্ক ক্যাশিয়ার এবং এক নিরাপত্তারক্ষী সহ মোট সাতজনকে খুনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও ব্যাঙ্ক ডাকাতি, ক্যাশ ভ্যান লুঠ এবং সরকারি অস্ত্র লুঠের মতো একাধিক মামলাতেও সে অভিযুক্ত ছিল।
সাহারানপুরের এনকাউন্টার
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এডিএস) লাল প্রতাপ সিং-এর নেতৃত্বে এই এনকাউন্টার চালানো হয়। গুলির লড়াইয়ে জখম হওয়ার পর লালনকে প্রথমে সারসাওয়ার কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে (সিএইচসি) নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে সাহারানপুরের জেলা হাসপাতালে রেফার করা হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, এনকাউন্টারের সময় লালনের এক সঙ্গী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তাকে খুঁজে বের করে গ্রেফতার করার জন্য তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে।
মাথার দাম ছিল সোয়া লক্ষ
লালনকে গ্রেফতার করার জন্য বারাণসীর পুলিশ কমিশনার (সিপি) ১ লক্ষ টাকা এবং চন্দৌলির পুলিশ সুপার (এসপি) ২৫,০০০ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন।

