বিহারের বক্সার জেল। দেশের সেরা ফাঁসির দড়ি তৈরি হয় এই জেলেই। ২০১৬-১৭ সালে সংসদ ভবনে হামলার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া আফজল গুরুর ফাঁসির দড়িও গিয়েছিল এই কারাগার থেকেই। গত সপ্তাহের শেষে সেখানে মোট দশটি ফাঁসির দড়ি তৈরির বরাত দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তারপর থেকেই চলছে জোর জল্পনা, এগুলি কি তাহলে নির্ভয়া কাণ্ডের দোষীদের জন্য তৈরি হচ্ছে?

সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে বক্সার জেলের সুপারিন্টেন্ডেন্ট বিজয়কুমার অরোরা জানিয়েছেন, কারা বিভাগ থেকে বক্সার জেল কর্তৃপক্ষকে আগামী ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে মোট ১০টি ফাঁসির দড়ি তৈরি করে দেওয়ার বরাত দেওয়া হয়েছে। তবে সেই দড়িগুলি কোথায় পাঠানো হবে তা জানানো হয়নি।

বিজয়কুমার অরোরা জানিয়েছেন এক-একটি ফাঁসির দড়ি তৈরি করতে প্রায় তিনদিন সময় লাগে। বেশিরভাগ কাজটাই এখনও হাতে হাতেই করা হয়। সামান্যই থাকে যন্ত্রের ব্যবহার। শেষবার যখন বক্সার জেলে ফাঁসির দড়ি তৈরি করা হয়েছিল, সেই সময় প্রতিটি  দড়ির দাম পড়ত ১৭২৫ টাকা করে। তিনি জানিয়েছেন, লোহা ও পিতলের দামের কমা-বাড়ার উপর এই দড়িগুলির দাম নির্ভর করে।

ফাঁসির দড়ির দাম কেন লোহা-পিতলের দামের উপর নির্ভর করে? বিজয়কুমার জানিয়েছেন, ফাঁসের দড়ির উপর লোহা-পিতলের তৈরি জালি লাগানো থাকে। মানব দেহ ঝুললে যাতে দড়ির ফাঁস আলগা না হয়ে যায়, এবং গিঁটটা খুলে না যায়, তার জন্যই ধাতব আস্তরণ দেওয়া হয়।

বক্সার জেলের সুপারিন্টেন্ডেন্ট আরও জানিয়েছেন, ১৪ ডিসেম্বরের আগেই ১০টি ফাঁসির দড়ি তাঁরা তৈরি করে ফেলতে পারবেন। কারণ এখন বক্সার জেলে কায়িক পরিশ্রমে ফাঁসির দড়ি তৈরির মতো বন্দিরও অভাব নেই, আবার আগে এই দড়ি তৈরি করেছেন এমন অভিজ্ঞ বন্দিরও অভাব নেই।

বিজয়কুমার আরও জানিয়েছেন এই দড়িগুলি তৈরি হয়ে যাওয়ার পর যদি বেশিদিন ফেলে রাখা হয়, তাহলে তা অকেজো হয়ে যায়। তাই মনে করা হচ্ছে খুব তাড়াতাড়িই হয়তো নির্ভয়া কাণ্ডের দোষীদের ফাঁসি দেওয়া হবে। এর আগে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষা করেছিলেন ২০১২ সালের ওই ভয়াবহ ঘটনার দোষীরা। কিন্তু, তা নাকচ করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোভিন্দ।