তিনি একটু ঘরোয়া মেয়ে। সাধারণভাবে ঘরের কাজ করতে বেশি ভালোবাসেন। আর পাঁচটা গৃহবধূর পোশাকে আরাম বোধ করেন বিহারের এক বধূ। কিন্তু স্বামীর অন্য পছন্দ। স্বামী চান, তাঁর স্ত্রী হবেন আধুনিকা। ছোট ছোট পোশাকে তাক লাগিয়ে দেবে সকলকে। শুধু তাই নয়, দাবি, স্ত্রীর সঙ্গে সুরার নেশায় মাতবেন তিনি। কিন্তু স্ত্রী যে বড্ড সাদামাটা। কিছুতেই ছোট পোশাক পরতে চান না। মদকে বিষ বলে মনে করেন। এই নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই অশান্তি লেগে থাকত। এই অশান্তির জেরে স্বামী তিন তালাক দিল বলে বিহারের এক গৃহবধূ অভিযোগ করেছেন। 

বিহারের ওই মহিলা জানিয়েছেন, '২০১৫ সালে আমাদের বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই আমরা দিল্লিতে চলে যাই। শুরুর দিকে সব ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু সমস্যা হল কয়েক দিন পর থেকেই। আমার স্বামী শহরের আধুনিক মেয়েরা যে ধরনের পোশাক পরেন, সেরকম পোশাক পরার জন্য জোর করতে থাকে। শুধু তাই নয়, আমাকে রাতে বিভিন্ন পার্টিতে নিয়ে যেতে শুরু করে। মদ্যপানের জন্য জোর করে। আমি এগুলো করতে কখনই রাাজি হতাম। সেই কারণে আমাকে রোজ মারত সে। রোজ মার খাওয়ার পরেও আমি দাঁতে দাঁত চেপে সেখানে পড়ে ছিলাম। গত কয়েকদিন আমাকে বলছিল, ঘর ছেড়ে দিতে। আমি রাজি না হওয়ার জন্য স্বামী আমাকে তিন তালাক দিয়ে দেয়।'

বিহারের রাজ্য কমিশন এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছে। বিহারের মহিলা কমিশন ওই ব্যক্তিকে ইতিমধ্যে নোটিশ পাঠিয়েছে। বিহারের মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন দিলমানি মিশ্র জানিয়েছেন,  'নিয়মিতভাবে মহিলাকে তাঁর স্বামী অত্যাচার করত। শুধু তাই নয়, দুবার জোর করে গর্ভপাত করায় ওই ব্যক্তি। আমরা এই কেসের দিকে নজর রাখছি। ১ সেপ্টেম্বর  ব্যক্তিটি তাঁকে তিন তালাক দিয়েছেন। মামলায় ওই মহিলার স্বামীকে ডেকে পাঠিয়ে ইতিমধ্যে একটি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।'

রাজস্থানে অনেকটা একই কারণে এক ব্যক্তি তাঁর স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়েছে। ছেলেকে ক্যারাম বোর্ড দিতে চেয়েছিল এক ব্যক্তি। কিন্তু তাঁর স্ত্রী ওই ক্যারাম বোর্ড নিতে অস্বীকার করে। তৎক্ষণাৎ স্ত্রীকে তিন তলাক দেন স্বামী। রাজস্থানের অন্ত থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। রাজস্থানের  এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি সাকিল আহমেদের বিরুদ্ধে মুসলিম ওমেন প্রটেকশন অফ রাইট অন ম্যারেজ অ্যাক্ট ২০১৯ এর অধীনে অভিযোগ নেওয়া হয়েছে।