বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে প্রথম রাত। আর সেটাই বিভীষিকা বয়ে উঠল এক নববধূর জন্য। তাঁর চুল কেটে চোখে ঢেলে দেওয়া হল 'ফেভি কুইক'। না শ্বশুরবাড়ির কেউ নয়, এই ভয়ঙ্কর কাজটি করেছে তাঁর বরের প্রেমিকা। চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটল বিহারের নালন্দা জেলায়।  

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) গভীর রাতে এই ঘটনাটি ঘটে বলে জানিয়েছে বিহার পুলিশ। জানা গিয়েছে বোনের এক বান্ধবীর সঙ্গে গত কয়েক বছর ধরে প্রেম ছিল মোরা তলব গ্রামের বাসিন্দা গোপাল রাম-এর। কিন্তু, তাঁর বাড়ি থেকে শেখপুরা জেলার এক মহিলার সঙ্গে তাঁর বিবাহ স্থির করা হয়। গত ১ ডিসেম্বর ধূমধাম করে বিয়েও হয়। মঙ্গলবারই নতুন বউকে নিয়ে গোপাল ও তাঁর আত্মীয় স্বজনরা গ্রামের বাড়িতে ফিরে এসেছিলেন।

আরও পড়ুন - দলীয় বিধায়কের জন্যই করাতে হল গর্ভপাত, বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন বিজেপি কাউন্সিলর

আরও পড়ুন - পাকিস্তানে মিলল ডোনাল্ড ট্রাম্পের 'আসল মেয়ে'র সন্ধান - দাবানলের গতিতে ভাইরাল ভিডিও, দেখুন

আরও পড়ুন - বহিরাগত তত্ত্ব খণ্ডাতে গিয়ে বাঙালি আবেগেই আঘাত, ফের বিতর্কে দিলীপ ঘোষ

কৃষক আন্দোলনের ভিডিওয় 'কারসাজী', টুইটার-এ বড় ধাক্কা খেলেন বিজেপির আইটি সেলের মাথা...

Read more at: https://bangla.asianetnews.com/india/twitter-labels-amit-malviya-s-farmer-video-manipulated-media-alb-qkpn9e

গোপালের বোনের বন্ধু হওয়ার সুবাদে তাদের বাড়িতে অবাধ যাতায়াত ছিল তাঁর প্রেমিকার। মঙ্গলবারও নতুন বউ দেখার ছলে তাদের বাড়িতে এসেছিল সে। আগের দিনের বাসর জাগা এবং যাতায়াতে র্লান্তিতে পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যই তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। তারপরই সকলের অগোচরে গোপালের প্রেমিকা নববধূর শোওয়ার ঘরে ঢুকে প্রথমেই তাঁর চুল কেটে দেয়। তারপর তাঁর চোখে ফেভি কুইক ঢেলে দেয়। যন্ত্রনায় সদ্যবিবাহিতা মেয়েটি চিৎকার করে উঠলে, গোপাল ও তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা জেগে গিয়েছিল।

এরপর তাঁর প্রেমিকা সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু, বাড়ির লোকজন তাকে ধরে ফেলে। রাতভর তাকে আটকে রেখে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে গোপালের পরিবার তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

তবে 'ফেভিকুইক'-এর মতো শক্তিশালী আঠার মধ্যে যে রাসায়নিক থাকে, তার জেরে গোপাল রাম-এর সদ্য বিয়ে করা স্ত্রী-র চোখ প্রায় পুড়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গুরুতর জখম নিয়ে তাঁকে নালন্দার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল হলেও তিনি চোখের দৃষ্টি হারাতে পারেন। এদিকে এই ঘটনা জানাজানির পর গোটা গ্রামের পরিবেশ থমথমে হয়ে রয়েছে। চাপা উত্তেজনা থেকে যাতে আর কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তার জন্য আপাতত গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।