কথায় আছে রাজনৈতিক নেতারা বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকেন। প্রতি ক্ষেত্রে তাঁদের আগ্রাধিকার দেওয়া হয়। কিন্তু মধ্যপ্রদেশের এক  বিধায়কের অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকে প্রসবের জন্য ১২ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হল। এমনি অভিযোগ উঠেছে মধ্যপ্রদেশের একটি সরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে।  রাজনৈতিক নেতা বা তাঁদের পরিবার সরকারি হাসপাতালে উপযুক্ত চিকিৎসা না পান, তা হলে কোথায়া যাবেন সাধারণ মানুষ, এমনই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে। 

 

মধ্যপ্রদেশের বিজয়পুর বিধানসভা আসনের বিধায়ক সীতারাম আদিবাসী। তিনি অভিযোগ করেছেন,  হাসপাতল কর্তৃপক্ষ তাঁর অন্তঃসত্ত্বা মেয়ের ওপর অবহেলা করেছে।  ১৮ নভেম্বর সকাল নটা নাগাদ তাঁর মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিছু পরীক্ষার পর তাঁকে শিবপুরি অথবা গোয়ালীওরের কোনও একটা হাসাপালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।  তাঁরা অ্যাম্বুল্যান্সের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু ঠিক সময়ে অ্যাম্বুল্যান্স আসেনি বলে  তিনি অভিযোগ করেছেন। হাসপাতালের তরফে জানানো হয়, অতিরিক্ত ফ্লুয়িড বের হওয়ার কারণে অপারেশন করতে হবে।  নর্মাল ডেলেভারি করার কোনও অবস্থা নেই। ওই বিধায়কের মেয়েকে প্রায় ১২ ঘণ্টা প্রসবের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। যার ফলে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। অবশেষে  একটি বেসরকারি হাসপাতালে বিধায়কের মেয়ে সুস্থ সন্তান প্রসব করেন। 

বিধায়ক অভিযোগ করেছেন, সকালে হাসপাতলে মেয়েকে ভর্তি করার পরেও কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, রাতের আগে কোনওভাবে অপারেশন করা সম্ভব হবে না। কারণ হিসেবে হাসপাতালের তরফে জানানো হয়, কর্মী কম থাকার কারণে অপারেশন সম্ভব নয়। কিন্তু মেয়ের শারীরিক অবস্থা ক্রমাগত খারাপ হওয়ার কারণে তাঁকে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সবার বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর মতো অর্থ থাকে না। বিধায়ক প্রশ্ন তুলেনেছেন, তাঁদের কী চোখের সামনে মৃত্যু দেখা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।