প্রায় এক সপ্তাহ হতে চলল পঞ্জাব ও হরিয়ানার কৃষকদের দিল্লি চলো অন্দোলন চলছে। এখনও দিল্লি পৌঁছাতে পারেননি বিক্ষোভকারীরা কৃষকরা। জাতীয় রাজধানীর সীমানা এলাকায় তাদের আটকে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। কৃষি বিল প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলনে নামা কৃষকরা এখনও নিজেদের জেদে অনড় রয়েছে। এই অবস্থায় তাঁরা একদিকে যেমন জাতীয় রাজধানী অবরুদ্ধ করে বসে রয়েছে, তেমনই কেন্দ্রীয় সরকারের একের পর এক প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছে। কিন্তু কৃষকদের এই আন্দোলনের জেরে বিজেপি কৃষকপন্থী ভাবমূর্তি ধাক্কা খাচ্ছে বলেই মনে করছে গেরুয়া শিবিরের একাংশ। তাই দলের একটি অংশ চাইছে খুব তাড়াতাড়ি শেষ হোক কৃষক আন্দোলন। 

মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় সরকার ও কৃষকদের ৩২ সংগঠনের বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে কোনও সমাধান বার হয়নি। পাল্টা কৃষকরা সরকারের দেওয়া কমিটি তৈরির প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় সরকার আরও একদফা কৃষকদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি আছে। আগামী ৩ ডিসেম্বর অর্থাৎ বৃহস্পতিবার আরও এক দফা বৈঠকের কথা রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের এক কর্মী জানিয়েছেন সোমবারই বারানসী থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন কৃষি আইন কৃষকদের পক্ষে। আর এই আইনের ফলে কৃষকদের কোনও ক্ষতি হবে না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এই দাবি বা যুক্তির পরেও কৃষকদের পিছিয়ে আসতে দেখা যায়নি। এই পরিস্থিতি কৃষকদের সঙ্গে দলীয় স্তরে কথাবার্তা বলার চেষ্টা করা হতে পারে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের বিশেষজ্ঞরা। তবে কৃষকদের এই আন্দোলন নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব উদ্বিগ্ন তার প্রমাণ পাওয়া গেছে প্রধানমন্ত্রীর কথায়। বারানসী থেকেই প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন কেন্দ্রের উদ্দেশ্য গঙ্গা নদীর মতই পবিত্র। অন্যদিকে সোমবার বিজেপি প্রধান জেপি নাড্ডার বাড়িতে অমিত শাহ, রাজনাথ সিং আর পীযূষ গোয়েল  একটি বৈঠকও করেন। কৃষকরা দিল্লি উপকণ্ঠে আসার পরেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহ কৃষকদের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। 

একটি সূত্র বলছে প্রো ফার্মার ইমেজ ধরে রাখতে বিজেপি আগামী দিনে কৃষি উন্নয়ন নিয়ে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার  যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সেগুলি নিয়ে প্রচার শুরু করবে।কৃষান সম্মান নিধি, স্বাস্থ্য কার্ড, মাইক্রো সেচ সুবিধে প্রভৃতি প্রকল্পগুলির সাফল্য তুলে ধরা হবে। বিজেপি দাবি করছে স্বামীনাথন কমিশনের প্রস্তাব ৯৫ শতাংশ বাস্তবায়িত করেছে মোদী সরকার। পাশাপাশি দলের পক্ষ থেকে বারবার অভিযোগ করা হয়েছে কৃষকদের আন্দোলনে নামার জন্য প্ররোচিত করা হয়েছে। পঞ্জাব ও হরিয়ানার কৃষকরা বিক্ষোভ দেখালেও মোদী সরকারের প্রতি আস্থা রেখেছে উত্তর প্রদেশ বা গুজরাতের কৃষকরা। দেশের আর কোথাও কৃষি বিল নিয়ে এজাতীয় আন্দোলন দেখা যায়নি বলেও দাবি করা হয়েছে গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে।