দু'দিন আগেই বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার কনভয়ের উপর হামলা হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গে। গেরুয়া শিবির আঙুল তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের দিকে। সেই নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে রাজ্য সরকারের দ্বন্দ্ব জারি রয়েছে। এর মধ্যেই মধ্যপ্রদেশে বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়-র ঘরের মাঠে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পোস্টার লাগালেন  বিজেপি কর্মীরাই। না, তাঁর সমর্থনে নয়, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে।

এদিন কৈলাস বিজয়বর্গীয়র অনুগামীরা ইন্দোরের রাস্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পোস্টার লাগান। রাস্তায় বলতে আক্ষরিক অর্থেই রাস্তার উপর সাঁটা হয়েছে সেই পোস্টার। আর তার উপর দিয়ে সারাদিন ধরে চলল শত শত যানবাহন। অভিনব প্রতিবাদ, সন্দেহ নেই। কিন্তু, একজন নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীর ছবির উপর দগিয়ে গাড়ি চলে যাচ্ছে, এই দূশ্য কতটা শোভন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। কৈলাস বিজয়বর্গীয় যদিওলিখেছেন, 'ফুল' দিয়েই তাঁরা ইটের জবাব দেবেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর পাল্টা হিংসার রাস্তায় না গিয়ে তাঁরা সহনশীলতার নীতিতেই থাকবেন বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্ব প্রাপ্ত বিজেপি নেতা।

গত ১০ ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গের ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের দলীয় এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার পথে জেপি নাড্ডার কনভয়ের উপর পাথর ছোঁড়া হয়েছিল, আঙুল উঠেছিল তৃণমূল কর্মীদের দিকে। বুলেট-প্রুফ গাড়িতে থাকায় জেপি নাড্ডা নিজে আহত না হলেও জাতীয় সাধারণ সম্পাদক কৈলাস বিজয়বর্গীয়-সহ বিজেপির একাধিক নেতা সেই হামলায় আহত হয়েছিলেন। যার জেরে সারা ভারত থেকেই বিজেপি-র নেতা-কর্মীরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সরকারের সমালোচনায় মুখর হয়েছেন।

বিজয়বর্গীয়র নিজের শহর ইন্দোরে, এদিনের আগেও বিজেপি কর্মীরা বাংলার তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছিলেন। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান-ও এই হামলার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকার-এর সমালোচনা করেছেন। ভোপালে, বিজেপি সাংসদ প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি 'পাগল' বলে অভিহিত করে বলেছেন পশ্চিমবঙ্গে 'হিন্দু রাজ্য' প্রতিষ্ঠা হতে চলেছে।