সমালোচনার ঝড়ের মুখে পড়ে বন্দে ভারত স্লিপারের খাবারের আমুল বদল আনল রেল। এখন এই ট্রেনে যাত্রীরা পাবেন খাঁটি বাঙালি আমিষ খাবার। দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস হাওড়া থেকে গুয়াহাটির মধ্যে যাত্রা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে।
সমালোচনার ঝড়ের মুখে পড়ে বন্দে ভারত স্লিপারের (Vande Bharat Sleeper) খাবারের আমুল বদল আনল রেল। এখন এই ট্রেনে যাত্রীরা পাবেন খাঁটি বাঙালি আমিষ খাবার। দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস হাওড়া থেকে গুয়াহাটির মধ্যে যাত্রা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গত ১৭ জানুয়ারি কামাখ্যা–হাওড়া–কামাখ্যা বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেসের উদ্বোধন করেন। এরপর ২২ জানুয়ারি থেকে ট্রেনটির সফর শুরু হয়। যদিও এই ট্রেনে আমিষ খাবার না মেলা নিয়ে সরব হন অনেক যাত্রী। রাজনীতিও শুরু হয়ে যায়। তৃণমূলের তরফ থেকে এনিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল।
খবরটি প্রকাশ্যে আসার পরই বিষয়টি নজরে আসে বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের। তিনি এ নিয়ে রেলমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বিতর্ক বাড়তেই রেল মন্ত্রক জানিয়েছিল যে, বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনেও আমিষ খাবার পাওয়া যাবে। বুধবার আইআরসিটিসির (ইন্ডিয়ান রেলওয়ে কেটারিং অ্যান্ড টুরিজম কর্পোরেশন) পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এক্ষেত্রে শুধুমাত্র চিকেনের পদই মিলবে। থাকছে না মাছের কোনও আইটেম।
যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আপডেট হল সম্প্রতি চালু হওয়া আমিষ খাবার। খাবার যে বাঙালি সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র, তা উপলব্ধি করে ভারতীয় রেল এমন একটি মেনু তৈরি করেছে যা ঘরের তৈরি খাবারের স্বাদ মনে করিয়ে দেয়। ট্রেনটিতে উচ্চমানের নিরামিষ খাবারের ব্যবস্থা থাকলেও, নতুন যুক্ত হওয়া আমিষ পদগুলো ইতিমধ্যেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
কী কী পাওয়া যাবে
- মেন কোর্স: সুগন্ধি কড়াইশুঁটির পোলাও, মুচমুচে ভাজি এবং ঐতিহ্যবাহী ভাজা মুগ ডাল।
- বাঙালির পছন্দ: নরম তুলতুলে পরোটার সঙ্গে নিরামিষাশীদের জন্য সুস্বাদু ছানার ডালনা অথবা আমিষ প্রিয়দের জন্য ঝাল-ঝাল চিকেন কড়াই।
- মিষ্টি মুখ: ক্ষীর কদম ছাড়া কোনও বাঙালির ভোজই সম্পূর্ণ হয় না, যা এই বিশ্বমানের যাত্রায় এক মিষ্টি সমাপ্তি এনে দেয়।
২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন রাজ্যকে আরও একটি চমৎকার উপহার দিয়েছেন। শিলিগুড়ি থেকে বারাণসী পর্যন্ত একটি হাই-স্পিড রেল করিডরের (বুলেট ট্রেন করিডর) ঘোষণা করেছেন। আসন্ন এই করিডোরটি গেম-চেঞ্জার হতে চলেছে, যা ভ্রমণের সময় ৩ ঘণ্টারও কম করে দেবে। উত্তরবঙ্গকে ভারতের আধ্যাত্মিক কেন্দ্র বারাণসীর সঙ্গে বিদ্যুৎ গতির ট্রেন দ্বারা যুক্ত করার মাধ্যমে সরকার নিশ্চিত করছে যে, ভারতের অর্থনৈতিক ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নে পশ্চিমবঙ্গ যেন সামনের সারিতে থাকে।
