কালো রঙের বডি ব্যাগে আপাদমস্তক মুড়িয়ে দড়ি দিয়ে বাঁধা রয়েছে কোভিড-১৯'এ মৃতদের দেহ। কোনওটি রাখা হাসপাতালের শয্যার উপরই, কোনও কোনওটি চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত টেবিলে। আর তার পাশের শয্যাতেই শুয়ে রয়েছেন জীবিত রোগীরা। বৃহস্পতিবার এইরকমই একটি ভয়াবহ দৃশ্যের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ফোন ক্যামেরায় রেকর্ড করা ওই ভিডিওটি মুম্বই শহরের পুর কর্পোরেশন পরিচালিত সিয়ন হাসপাতালের কোভিড ওয়ার্ডের ভিডিও বলে দাবি করা হচ্ছে। ভিডিওটির সত্যতা অবশ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

তবে ভিডিওটি সত্যি হলে বলতেই হবে এটা কোনও গাফিলতি নয়, করোনা-দুনিয়ায় এটা গুরুতর অপরাধের সামিল। এই সিয়ন হাসপাতাল কিন্তু, মুম্বই শহরের কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসার জন্য গঠিত অন্যতম বৃহৎ হাসপাতাল। সেই হাসপাতালের কোভিড ওয়ার্ডের এই দশা হলে মুম্বই তথা মহারাষ্ট্রে যে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যাটা ক্রমেই বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য। ভিডিওটিতে কমপক্ষে সাতটি মৃতদেহ ওইভাবে বডি ব্যাগে ভরা অবস্থায় কোভিড ওয়ার্ডে পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। আর তার আশেপাশের শয্যগুলিতেই চিকিৎসা চলছে কোভিড-১৯ রোগীদের। কিছু রোগীর পরিবারের সদস্যরাও তাদের কাছে রয়েছেন। কারোর মধ্য়েই মৃতদেহ গুলি নিয়ে কোনও চাঞ্চল্য নেই। তাদের দেখে মনে হচ্ছে কোভিড ওয়ার্ডে এইভাবে মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে তারা অভ্যস্ত।

মহারাষ্ট্রের বিজেপি বিধায়ক নীতেশ রানে এই ভিডিওটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছেন, 'সিয়ন হাসপাতালে রোগীরা মৃতদেহের পাশে শুয় আছেন। এটা চরম (খারাপ অবস্থা)...এ কেমন প্রশাসন! খুব খুব লজ্জাজনক!'  

এমনকী মহারাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন জোটে থাকা কংগ্রেসের নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মিলিন্দ দেওড়া-ও টুইট করে বলেন, 'সিয়ন হাসপাতালে অসুস্থদের পাশে মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে আমি ক্ষুব্ধ। বিএমসি (বৃহন্নুম্বাই পৌর কর্পোরেশন) কোভিড-১৯ মৃতদের দেহ সৎকার-এর সময় বিস্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশ অনুসরণ করছেন না কেন? সরকারি হাসপাতালের কর্মীরা সীমিত সংস্থান হাতে নিয়েযথাসাধ্য চেষ্টা করছেন। মুম্বই প্রশাসনের এখনই পদক্ষেপ নেওয়া দরকার!'

তবে, সিয়ন হাসপাতালের ডিন প্রমোদ ইঙ্গলে-র দাবি কোভিড-১৯'এ মৃতদের দেহ নিতে অস্বীকার করছেন তাদের স্বজনরা। এতদিকে হাসপাতালের মর্গে দেহ রাখার ১৫ টি স্লট রয়েছে। যার ১১ টি পূর্ণ ছিল। যদি সমস্ত মৃতদেহ সেখানে স্থানান্তরিত করা হত, তবে, কোভিড-১৯ ছাড়া অন্যান্য কারনে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মৃতদেহ নিয়ে সমস্যা হত। তাই মৃতদেহগুলি ওখানে রাখা ছিল। তাঁর মতে ভিডিওটি সম্ভবত, মৃতদেহগুলি সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরিবারের সম্মতির অপেক্ষা করার সময়ে তোলা। মৃতদেহগুলি তারপরই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে, বলে জানিয়েছেন তিনি।

ডাক্তার ইঙ্গলে আরও বলেছেন, কোভিড রোগীদের মৃতদেহ একবার বডিব্যাগে ভরা হয়ে গেলে সংক্রমণ ছড়ানোর আর ভয় থাকে না। কিন্তু, কোভিড রোগীদের ওই একই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃতদের দেহের পাশে শুইয়ে রাখলে তাদের মানসিকভাবে হেরে যাওয়ার যে ভয় থাকে, সেই বিষয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি।