ব্রেক্সিটের পক্ষেই মত দিল ব্রিটেন। হাউস অফ কমন্স-এ ৬৫০-এর মধ্যে ৩২৬ আসনে  জিতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করল প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন-এর কনজারভেটিভ পার্টি। এখনও ব্রিটেনের সাধারণ নির্বাচনের সম্পূর্ণ ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বরিস-ই যে ফিরতে চলেছেন, সেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। ফলে আগামী মাসে ইউরোপিয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনকে বের করে আনতে বরিসের আর বাধা রইল না।

এদিনের জয় কনজারভেটিভ নেতা হিসেবে বরিসের নাম ইতিহাসে তুলল। মার্গারেট থ্যাচার-এর পর থেকে সবচেয়ে নির্বাচনী রাজনীতিতে আর কোনও কনজারভেটিভ নেতা এতটা সফল হননি।

অন্যদিকে বিরোধী বামপন্থী লেবার পার্টি এই দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ফল করতে চলেছে। খুব বেশি পরিবর্তন না ঘটলে তাদের ঝুলিতে ২০০টির বেশি আসন আসবে না। এই নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর ফলাফল পুরো প্রকাশ হওয়ার আগেই লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন-এর দলীয় নেতার পদ থেকে পদত্যাগের আওয়াজ উঠেছে। করবিন নিজে এই ফলাফলটিকে তাঁর দলের পক্ষে অত্যন্ত হতাশাজনক বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, লেবার পার্টিকে আর কোন নির্বাচনে তিনি নেতৃত্ব দেবেন না। তবে ফলাফল বের হওয়ার পরপরই পদত্যাগে আপত্তি আছে তাঁর।

ব্রিটেনে সাধারণত পাঁচ বছর অন্তর অন্তর নির্বাচন হয়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে তিন বছর পর ভোট হয়েছে। তাছাড়া শীতকালে ডিসেম্বর মাসে ভোট হতেও অনেকদিন পর দেখল ব্রিটেন। হাউস অব কমন্স-এ কনজারভেটিভ পার্টির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় এতদিন ব্রেক্সিটের সিদ্ধান্তকে কার্যকর করতে পারেননি বরিস। ব্রেক্সিটের পক্ষে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা আদায়েরর জন্যই সেই এই অসময়ে নির্বাচনের ডাক দিয়েছিলেন বরিস জনসন। এদিনের ফলের পর তাঁর সেই কাজে এগোতে আর বাধা রইল না। ব্রিটিশরা ভোট দিলেন ব্রেক্সিটের পক্ষেই।