প্রথম মোদী সরকারের সময়ে চালু হয়েছিল 'স্বচ্ছ ভারত', 'আয়ুস্মান ভারত' প্রকল্প। এবার দ্বিতীয় নরেন্দ্র মোদী সরকার আনতে চলেছে 'বুদ্ধিমান ভারত' প্রকল্প। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। 

শোনা যাচ্ছে এই প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য, ৮ বছর পর্যন্ত বয়সের শিশু-কিশোরদের মস্তিকের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া। কারণ এই জন্ম থেকে আট বছর বয়স পর্যন্ত বাচ্চাদের মস্তিকের দ্রুত উন্নতি ঘটে। তাই বয়সের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে যাতে তাদের বোধ-বুদ্ধির বিকাশ সঠিকভাবে হয়, সেই দিকে বিশেষ নজর দিতেই আনা হবে এই প্রকল্প। 

প্রাথমিকভাবে দুটি মূল বিষয়ের উপর ভিত্তি করে শুরু হবে এই প্রকল্প। যার মধ্যে একটি হল শিশুদের পুষ্টি। বয়স অনুযায়ী তাদের উচ্চতা ও ওজন বৃদ্ধির দিকে নজর দেওয়া হবে। আর অপর বিষয়টি হল বয়স অনুযায়ী লিখতে-পড়তে পারা, অঙ্ক কষা এবং বোঝার ক্ষমতা তৈরি করতে প্রাথমিক শিক্ষার উপর গুরুত্ব দেওয়া। 

সরকারি সূত্রের খবর, গোটা পরিকল্পনাটাই এখন প্রাথমিক স্তরে। কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের একটি বৈঠক হয়। সেখানে শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষার মান খুবই খারাপ। প্রধানমন্ত্রীকে তাঁরা জানান শিশুর জন্মের পর আট বছর বয়স পর্যন্ত তাদের দিকে নজর দেওয়া বিশেষ জরুরি। আর এরপরই 'বুদ্ধিমান ভারত' প্রকল্পের কথা ভাবা হয়েছে। যা কার্যকর হলে ভারতের মতো দেশের পক্ষে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হয়ে উঠতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের আশা। 

২০১৮ সালে এক বেসরকারি সংগঠনের রিপোর্টে জানানো হয়েছিল বর্তমানে ভারতের পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের মধ্যে ৫৮.৪ শতাংশই রক্তাল্পতায় ভুগছে। যারমধ্যে উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ডের মতো রাজ্যের অবস্থা আরও খারাপ। ২০১৭ সালের একটি রিপোর্ট অনুসারে দেশের প্রতি ১০০০ জন শিশুর মধ্য়ে ৩৭ জনেরই মৃত্যু হয় পাঁচ বছরের কম বয়সে। সদ্যজাত শিশুর ক্ষেত্রে মৃত্যুর হার প্রতি ১০০০ জনে ৩৩ জন। 

তবে প্রকল্পটির প্রাথমিক স্তরেই তা বিরোধাীদের প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এনডিএ আমলের 'জাতীয় পুষ্টি মিশন'-এর প্রথম মোদী সরকারের সময়েই নাম পাল্টে হয়েছিল 'পোষণ অভিযান'। এই প্রকল্পে ৬ বছর বয়স পর্যন্ত শিশু ও তাদের মায়েদের জন্য খাদ্য, প্রাথমিক শিক্ষা, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবা, টিকাকরণ, নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষার কাজ চলে। এছাড়াও প্রাথমিক শিক্ষার জন্য রয়েছে 'সর্ব শিক্ষা অভিযান'ও। বিরোধীদের অভিযোগ, এই সবকটিকে একত্রিত করে 'বুদ্ধিমান ভারত'-এর মতো গালভরা নাম দিয়ে ফের লোক ঠকানোর দেওয়ার ফন্দি আঁটছে বিজেপি।