আমরা অরণ্যপ্রেমী আন্তোনিও ভিনচেনতের কথা জানি। সেই যে লোকটা পকেটের টাকা খরচ করে ব্রাজিলের সাও পাওলো শহর থেকে ২০০ কি.মি. দূরে ৩০ হেক্টর পতিত জমি কিনে একটা একটা করে গাছ বোনা শুরু করেছিলেন আজ থেকে প্রায় ৫০বছর আগে, এখন সেটা একটা অরণ্যভূমি যেখানে রয়েছে ৫০ হাজার বৃক্ষ। কেবল অরণ্য নয় সান-ফ্রান্সিসকো হাভিয়ে শহরের কাছে আন্তোনিও ভিনচেনতের  ব্যক্তিগত অরণ্য অনেক ধরনের প্রাণীর নিরাপদ আশ্রয়স্থল।  অনেক ধরনের পাখী রয়েছে সেখানে। জঙ্গল তৈরি হওয়ার পর সেখানে জলের উৎসও তৈরি হয়েছে। 

ভিনচেনতের মতো সবুজপ্রেমী মানুষ এদেশেও আছেন। তারা জমি কিনে গাছ পুঁতে জঙ্গল তৈরি না করলেও সবুজের নেশায় বুঁদ হয়ে বছরের পর বছর ধরে গাছ লাগাতে লাগাতে সংখাটা আজ হাজার ছাড়িয়ে লক্ষতে পৌঁছে গেছে। শুধু কি তাই গাছ লাগানোর নেশায় ব্যক্তিগত জীবনে অনেক কষ্ট মানতে বাধ্য হয়েছেন কেউ কেউ। তেমনই একজন মানুষ তামি‌লনাড়ুর বাস কন্ডাক্টর এম যোগানাথন। 

গত বিশ বছর ধরে যোগানাথন তামিলনাড়ু সড়ক পরিবহনের মারুধামালাই ও গান্ধিপুরামের মধ্যে চলাচলকারী ৭০ নম্বর বাসের কন্ডাকটর। ওই রুটে চলাচলকারী যাত্রীরা সকলেই তাঁকে চেনেন। কিন্তু,  আরও অনেক বেশী লোক তাকে চেনেন গাছ পাগল মানুষ হিসাবে। গাছ লাগানোর কাজে সময় দিতে গিয়ে বাস কন্ডাক্টরির কাজে নিয়মিত সময়ে যেতে পারতেন না। এ জন্য গত ২০ বছরে যোগানাথনকে ৪০ বার বদলি হতে হয়েছে। কিন্তু তাতেও দমানো যায় নি যোগানাথনের মতো মানুষকে। যোগানাথনের কথায়, সবই ওই গাছ লাগানোর জন্যে। ব্যক্তিগত কারণে কখনও একদিনের জন্যেও ছুটি নেননি তিনি। 

গত শতকের আটের দশক থেকে গাছ লাগানোর নেশা তাঁকে পেয়ে বসে। ওই সময়ে নীলগিরির লাগোয়া অঞ্চলে নির্বিচারে গাছ কাটা হচ্ছিল। আকাশের দিকে মাথা তুলে দাঁড়ানো বিশাল মহীরুহ গুলিকে নির্বিচারে খুন হতে দেখে যোগানাথনের অন্তর ক্ষত বিক্ষত হতে থাকে। মনে মনে যোগনাথন ঠিক করেন এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে। এই নিধনের জবাব দিতে হবে। খুব তাড়াতাড়ি সেইপথ বের করে ফেললেন তিনি। যোগানাথন তাঁর সাপ্তাহিক ছুটির দিন সোমবারে স্থানীয় স্কুলগুলিতে গিয়ে গাছের চারা রোপণ করতে শুরু করলেন। এইভাবে কয়েক বছরের মধ্যে তিনি স্থানীয় প্রতিটি স্কুলের চৌহদ্দিতেই  গাছের চারা রোপণ করে ফেলেন। পরবর্তীতে তাঁর কর্মকাণ্ড তামিলনাড়ুর অন্যান্য জেলাগুলিতে্ও ছড়িয়ে দেন। এ কাজের জন্যে তামিলনাড়ুর মোট ৩ হাজার স্কুলে ঘুরেছেন যোগানাথন। স্কুল পড়ুয়াদের উদ্বুদ্ধ করেছেন গাছ লাগাতে। স্কুল পড়ুয়ারা তাঁর সেই ডাকে সাড়াও দিয়েছে। এ পর্যন্ত যোগানাথন তামিলনাড়ুর ৩২টি জেলায় মোট ৩ লক্ষের বেশী গাছ লাগিয়েছেন।