করোনার টিকাকরণ নিয়ে কেন্দ্র রাজ্য চাপানউতোর তুঙ্গে। দেশ জুড়ে একদিকে করোনার চোখরাঙানি বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র ও রাজ্যের সংঘাতও বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। মঙ্গলবার কেন্দ্রকে টিকাকরণ নিয়ে কড়া চিঠি দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন দেশ জুড়ে টিকাকরণ নিয়ে ফাঁকা আওয়াজ দিয়ে চলেছে কেন্দ্র। অথচ কেন্দ্রের মোদী সরকার কাজের কাজ কিছুই করছে না। 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি একমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই ধারাবাহিকভাবে সঠিক উপায়ে টিকাকরণ করানো হচ্ছে। ট্যুইট করে এদিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন টিকাকরণের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে রাজ্যে। সেই সাফল্য কেন্দ্র দাবি করতে পারে না। কারণ কেন্দ্রের টিকাকরণ কর্মসূচি কোনও নির্দিষ্ট পথে চলছে না।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন সোমবার কলকাতাতে ৩৯ হাজার টিকা দেওয়া হয়েছে। যা আগে প্রতিদিন ২৫ হাজার হিসেবে দেওয়া হত। পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রত্যেক উপযুক্ত নাগরিকের কাছে টিকা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে অঙ্গীকারবদ্ধ। 

যে চিঠি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, তাতে কেন্দ্রকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করা হয়েছে। মমতার দাবি ভ্যাকসিনের সঠিক বন্টনের জন্য গত ২৪শে ফেব্রুয়ারি রাজ্যের পক্ষ থেকে কেন্দ্রকে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই দাবি মানেনি কেন্দ্র। কেন্দ্রের টিকাকরণ নীতি অস্বচ্ছ ও বৈষম্যমূলক। 

 

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি কেন্দ্রকে বারবার বলা সত্ত্বেও টিকার সঠিক বন্টনে উদ্যোগ দেখানো হয়নি। এদিকে, গত এক মাসে ১৭গুণ বেড়েছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। ২০২০ সালের থেকে ২০২১ সালের করোনা আক্রান্তের সংখ্যার দ্রুত গতি বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। ১৬ হাজার থেকে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২,৭৫,০০০। বিশেষজ্ঞরা বলছেন আগামী এক মাসে আইসিইউ বেডের আকাল দেখা দিতে চলেছে। 

স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানাচ্ছে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২ লক্ষ ৫৯ হাজার ১৭০ জন। অ্যাকটিভ কেসের সংখ্যা ২০ লক্ষ ৩১ হাজার ৯৯৭। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন ১ লক্ষ ৫৪ হাজার ৭৬১ জন। এখনও পর্যন্ত মোট সুস্থতার সংখ্যা ১ কোটি ৩১ লক্ষ ৮ হাজার ৫৮২। মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৭৬১ জনের।

গোটা দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ৫৩ লক্ষ ২১ হাজার ৮৯ জন। মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৮০ হাজার ৫৩০ জনে।  এদিকে, পয়লা মে থেকে টিকাকরণের আওতায় আসছে ১৮ বছর এবং তার ঊর্ধ্বে থাকা মানুষজন। এমনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে। সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে করোনা টিকা উৎপাদনে জোর দিচ্ছে সংস্থাগুলি। টিকাকরণ নিয়ে সোমবার বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে তিনি পরিস্কার করে জানিয়ে দেন, টিকাকরণ কর্মসূচির আওতায় যাতে অতি দ্রুত দেশের সর্বাধিক জনসংখ্যাকে নিয়ে আসা যায় তার জন্য গত এক বছর ধরেই চেষ্টা করে চলেছে সরকার।