কেন্দ্রীয় সরকার আরও একবার কৃষকদের আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিল। সোমবার কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে  দিল্লির উপকণ্ঠে ধর্না অবস্থানে সামিল হওয়া আন্দোলনকারী কৃষকদের আন্দোলনের প্রস্তাব পাঠান হয়েছে। নতুন তিনটি কৃষি আইন নিয়ে আলোচনা হবে বলেও জানান হয়েছে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর অর্থাৎ বুধবার বিজ্ঞানভবনে দুপুর ২টো নাগাদ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান  হয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের তরফ থেকে। কৃষকরা যদি আলোচনায় বসেন তাহলে এটি হবে ষষ্ঠ বৈঠক। 

এর আগেই কেন্দ্রীয় সরকার আন্দোলনকারী কৃষকদের সঙ্গে পাঁচ বার  আলোচনায় বসেছিল। আলোচনায় বসেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  অমিত শাহ। কিন্তু প্রতিটা বৈঠকই ব্যর্থ হয়। কোনও সমাধান সূত্র পাওয়া যায়নি। নতুন তিনটি আইন প্রত্যাহার করতে হবে। এই দাবিতে প্রতিবারই অনড় থেকেছেন আন্দোলনকারী কৃষকরা। কৃষকদের আবেদনে সাড়া দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার নূন্যতম সহায়ক মূল্য নিয়ে আইন পাশ করতে রাজি হলেও আন্দোলন প্রত্যাহার করেনি তাঁরা। গত ২৬ নভেম্বর থেকে দিল্লির উপকণ্ঠে চলছে কৃষকদের এই আন্দোলন। মোসবার তা ৩৩ দিন অতিক্রম করে। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে নিজেদের  জেদে অনড় রয়েছেন কৃষকরা। এদিন কৃষকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দিনে আন্দোলনকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, আর সেইকারণে আন্দোলনের  জন্য তাঁরা দিল্লির সিংহু বর্ডারে একটি নতুন অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করছেন। 

অন্যদিকে কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর এদিনও কৃষক আন্দোলনের জন্য বিরোধীদের দায়ি করেছেন। তিনি বলেছেন দিল্লি সংলগ্ন এলাকায় চলা যেসব কৃষকরা জড়ো হয়েছেন তাঁদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। আর সেই কারণে তিনি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন দেশের অধিকাংশ কৃষকই নতুন তিনটি কৃষি আইন গ্রহণ করেছে। খুব তাড়াতাড়ি সমাধান পাওয়া যাবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। কৃষি মন্ত্রক সূত্রের খবর নতুন তিনটি কৃষি আইন, এমএসপি বিদ্যমান ব্যবস্থা, কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ বিল ও দূষণের জন্য আনা কমিশনের অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হবে।