বছরের প্রথম দিনই যৌন নিপীড়নের এক মর্মান্তিক ঘটনা সামনে এল। এদিন চেন্নাই পুলিশ জানিয়েছে, ৩৬ বছরের এক মহিলা এবং তাঁর ৩২ বছরের বয়ফ্রেন্ডকে তারা গ্রেফতার করেছে। কারণ ওই মহিলা একাধিকবার তাঁর প্রেমিককে তাঁর ১৫ বছরের নাবালিকা মেয়েকে ধর্ষণ করতে দিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, কয়েক বছর আগে স্বামী সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছিল ওই মহিলার। এরপর সে শেখর নামে শোলিংনাল্লুরের বাসিন্দা, পেশায় ঘরে রঙ করার কর্মী এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিল। শেখর, প্রায়ই ওই মহিলার বাড়িতে ঢুঁ মারত। ক্রমে তার নজর যায় ওই মহিলার নাবালিকা মেয়ের দিকে। মহিলার অগোচরেই তার মেয়ের উপর যৌন নির্যাতন শুরু করেছিল শেখর।

মেয়েটি বাধ্য হয়ে তার মায়ের কাছে সেই অত্যাচারের কথা সবিস্তারে বর্ণনা করে। সে ভেবেছিল তার মা শেখরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু, তার পরিবর্তে ওই মহিলা তাকে মুখ বন্ধ রেখে তার বয়ফ্রেন্ড-এর কুকীর্তিতে 'সহযোগিতা' করার পরামর্শ দিয়েছিল। তার মায়ের নীরব সম্মতি পেয়ে শেখরের অত্যাচারের মাত্রা আরও বাড়ে। অবশেষে নিয়মিত ধর্ষণের ফলে গর্ভবতী হয়ে পড়ে ওই কিশোরী।

এরপর গত সেপ্টেম্বর মাসে তার মা তাকে মামার বাড়িতে রেখে গিয়েছিল। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামাকে তার গর্ভাবস্থার কথা জানায়নি তার মা। পরে মেয়েটিই মামাকে তার গর্ভাবস্থার কথা জানায়। সবকিছু জানার পর তার মামা তার মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তাতে কোনও লাভ হয়নি। সেই মহিলার ভাইয়ের ফোনে সাড়াই দেয়নি।

এরপর মামা ওই কিশোরী মেয়েটিকে নিয়ে মদীপক্কম-এর মহিলা থানায় গিয়ে তার নিজের বোন এবং শেখর-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পকসো আইনের প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা দায়ের করে। তারপর থেকেই ওই দুই প্রেমিক-প্রেমিকার খোঁজ চলছিল। অবশেষে গত বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেছে। কিশোরী মেয়েটি আপাতত এক শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে রয়েছে। সেখানেই সে গত অক্টোবর মাসে এক সন্তানের জন্ম দিয়েছে।