ছোট ছোট ফুলের মতো শিশু। তাদেরই হাতের আঙুলের ডগা কেটে দিয়ে, সেই রক্ত দিয়ে বাধ্য করা হল 'সত্যম' (সত্য) লিখতে। এটা নাকি প্রতিবাদ। কেরলের এরনাকুলাম জেলার কোথামঙ্গলম এলাকার ঘটনা। জ্যাকবিয়ান না অর্থোডক্স - চার্চের দখল কাদের হাতে থাকবে এই নিয়েই মূল বিরোধ। সম্প্রতি অর্থোডক্স গোষ্ঠী চার্চের দখল নিতে চাইলে, তারই প্রতিবাদে শিশুদের নিয়ে এই নিষ্ঠুর কাণ্ড ঘটায় জ্যাকবিয়ান গোষ্ঠী বলে অভিযোগ। এই নিয়ে জ্যাকবিয়ান চার্চ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে রাজ্যের শিশু অধিকার রক্ষা প্যানেল।

দীর্ঘদিন ধরেই কেরলে প্রায় হাজারেরও বেশি চার্চের দখল নিয়ে খ্রীষ্টানদের দুই গোষ্ঠী - জ্যাকবিয়ান ও অর্থোডক্সের বিরোধ রয়েছে । বছর দুয়েক আগে সুপ্রিম কোর্ট অর্থোডক্সদের পক্ষে রায় দিয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, তারপরও অর্থোডক্স গোষ্ঠীর সদস্যরা চার্চে প্রবেশ করতে পারেননি। এরপর সুপ্রিম কোর্টের আদেশ বাস্তবায়নের জন্য রাজ্য পুলিশকে নির্দেশ দেয় কেরল হাইকোর্ট।

সম্প্রতি এরনাকুলাম জেলার এক স্থানীয় আদালতও অর্থোডক্স গোষ্ঠীর সদস্যদের পুলিশ প্রহরা দিয়ে এই চার্চে প্রবেশ করানোর নির্দেশ দিয়েছিল। সেই মতো গত ২৮ অক্টোবর আদালতের আদেশনামা নিয়ে পুলিশ অর্থোডক্স পক্ষের যাজক এবং ভক্তদের নিয়ে আসে চার্চটিতে। কিন্তু তারপরও জ্যাকবিয়ান যাজক ও ভক্তদের দৃঢ় প্রতিরোধের মুখে অর্থোডক্সরা চার্চে ঢুকতে পারেননি। এই নিয়ে দুই তরফে ঝামেলা তীব্র পর্যায়ে পৌঁছায়।

এরপরই অর্থোডক্স চার্চের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শনের আয়োজন করে জ্যাকবিয়ানরা। তাতে সামিল করা হয় 'সানডে স্কুল'-এর শিক্ষার্থীদেরও। তাদেরই কয়েকজনকে সাদা কাগজে হাতের আঙুল কেটে 'সত্যম' লিখতে বাধ্য করানোর অভিযোগ উঠেছে।

সংবাদমাধ্যমে এই বিষয়ে প্রতিবেদন পড়ে কেরল স্টেট কমিশন ফর প্রোটেকশন অফ চাইল্ডস রাইটস জ্যাকবিয়ানদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেছে। এক বিজ্ঞপ্তিতে কমিশনের চেয়ারম্যান পি সুরেশ বলেছেন, শিশুদের অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের অধিকার রক্ষার জন্য বিক্ষোভ সমাবেশ করতে পারে। তবে, তাদের প্রতিবাদের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করা এবং তাদের রক্তকে তাদের বিশ্বাসের প্রচারের কাজে লাগানোটা বেআইনি। তিনি এই বিষয়ে এরনাকুলামের জেলা কালেক্টর এবং পুলিশের ডিজি-র কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করেছেন। রাজ্য সরকার শীর্ষ আদালতের আদেশ কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়েছে এই অভিযোগ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে অর্থোডক্স গোষ্ঠী।

গত মাসে, জ্যাকবিয়ান গোষ্ঠীর তীব্র প্রতিবাদের মধ্যেই মালঙ্কারা সিরিয়ান অর্থোডক্স চার্চের যাজক এবং অনুগামীরা পাইরাভম ভালিয়াপাল্লীর চার্চের দখল নিয়েছেন। তারপরই কেরলে দুই গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছেছে। যার মধ্যে পড়ে  রক্তাক্ত হচ্ছে শৈশব।