শিশু সন্তানদের নিয়ে এমনিতেই বাবা-মা'দের চিন্তার শেষ থাকে না। এই করোনা মহামারির সময়ে সেই চিন্তা আরও বহুগুণে বেড়েছে। কতদিন শিশুদের বাড়িতে বন্দি করে রাখা যায়? স্কুল হচ্ছে অনলাইনে, বন্ধ পাড়ার পার্ক, দেখা-সাক্ষাত গল্প নেই বন্ধুদের সঙ্গে। অনেকেই ভেবেছিলেন টিকা এলে অবশেষে এই অবাঞ্ছিত বন্দিদশা ঘুঁচবে বাচ্চাদের। এমনকী অনেক বাবা-মা টিকার ভরসাতেই দাবি করেছিলেন ভ্যাকসিন এলে তবেই যেন স্কুল খোলা হয়। কিন্তু, মঙ্গলবার অন্য রকমই জানালো মোদী সরকার।

যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসের নতুন এবং  আরও সংক্রামক স্ট্রেন সনাক্ত হওয়ার পর, এখন নতুন করে মহামারির ভয় বাড়ছে মানুষের মনে। তার মধ্যেই মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে নীতি আয়োগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সদস্য ডাক্তার ভি কে পাল জানিয়ে দিলেন, ভারতে বাচ্চাদের টিকা দেওয়া হবে না। এখন পর্যন্ত মহামারি সংক্রান্ত যে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে তাতে শিশুদের টিকা দেওয়ার কথা বিবেচনা করার কোনও কারণ নেই বলেই মনে করছে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি নির্ধারকরা। ,

তবে যুক্তরাজ্যে পাওয়া করোনার নতুন রীপান্তরটি নিয়েও বিশেষ ভাবিত হওয়ার নেই বলেই জানিয়েছেন ডাক্তার পাল। তিনি বলেন, 'যুক্তরাজ্যে রূপান্তরিত সার্স-কোভ-২ স্ট্রেন সনাক্ত হওয়া, আমাদের দেশে তৈরি ভ্যাকসিনগুলি (কার্যকর হওয়ার) সম্ভাবনার উপর কোনও প্রভাব ফেলেনি'। তিনি আরও বলেন, নতুন রূপটি করোনার সংক্রমণক্ষমতা বৃদ্ধি করলেও, এই রূপান্তরটিতে রোগের তীব্রতা খুব একটা কমে-বাড়েনি, অর্থাৎ মৃত্যুর বার বাড়ার সম্ভাবনা নেই। তবে তিনি তারপরেও সাধারণ মানুষকে মহামারি সম্পর্কে সজাগ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

বস্তুত, পর্যবেক্ষণে দেখা গিয়েছে, শিশুদের ক্ষেত্রে করোনার মরণক্ষমতা একেবারে নগন্য। ভাইরাস বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এর সম্ভাব্য কারণ হল শিশুদের রোগপ্রতিরোধক্ষমতা প্রাপ্ত বয়স্কদের তুলনায় অনেক তাজা থাকে। তাই সহজেই তাদের শরীরের অনাক্রম্যতা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করে জয়ী হয়।