ফের আন্দোলনে নামছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। শেষ তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছিল বিহারের ভোটের প্রচারপর্বে। বিহারে নাস্তানাবুদ হওয়ার পর থেকে তিনি আড়ালেই ছিলেন। কৃষক আন্দোলন যাতে রাজনীতিতে কলুষিত না হয়, তার জন্য রাজধানীর বুকে চলা কৃষক বিক্ষোভেও আসেননি একবারও। কিন্তু, চলতি সপ্তাহেই ফের আন্দোলনে দেখা যাবে তাঁকে। আগামী বৃহস্পতিবার (২৪ ডিসেম্বর) তিন কৃষি আইনের বিরোধিতা করে দলীয় সাংসদ ও নেতাদের নিয়ে রাষ্ট্রপতি ভবনে পর্যন্ত একটি পদযাত্রার নেতৃত্ব দেবেন তিনি।

পঞ্জাব ও হরিয়ানা থেকে আসা বহু কংগ্রেস নেতা কৃষির আইনের বিরোধিতা করে দিল্লির যন্তর মন্তরে ধর্নায় বসেছেন। আগামী ২৪ ডিসেম্বর সেখান থেকেই তাঁদের ও দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে রাষ্ট্রপতি ভবনের দিকে যাত্রা করবেন রাহুল গান্ধী। তার আগে এখন কংগ্রেস নেতারা ওই তিনটি বিতর্কিত আইন বাতিল করার আবেদনপত্রে কৃষকদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করছেন। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রায় দুই কোটি কৃষকের স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে এবং এই বিষয়ে তাত্ক্ষণিক হস্তক্ষেপ দাবি করে রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেবেন। তার সঙ্গেই থাকবে কৃষকদের সাক্ষর।

মূলত হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান ও পঞ্জাবের হাজার হাজার কৃষক কেন্দ্রের নয়া প্রবর্তিত তিনটি কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দিল্লির বিভিন্ন সীমান্তে প্রতিবাদ বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। রাহুল গান্ধী বা কংগ্রেসের কোনও নেতা সরাসরি সেই প্রতিবাদস্থলে না গেলেও, দলের পক্ষ থেকে এবং ব্যক্তিগতভাবে রাহুল গান্ধী নিয়মিত কৃষি আইন এবং তাকে কেন্দ্র করে কৃষকদের চলমান আন্দোলন-কে সমর্থন জানিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করে চলেছেন। প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি বলেছেন, কৃষি আইন সম্পূর্ণ প্রত্যাহার না কর হলে মোদী সরকার দেশ ও কৃষকদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে।

কৃষি আইন নিয়ে কৃষকদের সমস্যা সমাধানের জন্য এখনও অবধি কেন্দ্র কৃষক নেতাদের সঙ্গে পাঁচ দফা আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছে। ন্যূনতম সমর্থন মূল্যের আশ্বাসসহ লিখিত প্রস্তাব পাঠিয়েছে। কিন্তু, এই তিনটি আইন বাতিলের দাবিতে কৃষক সংগঠনগুলি অনড়। অন্যদিকে কেন্দ্রও আইন ফিরিয়ে না নেওয়ার অবস্থানে অনড়। তাই এক অভূতপূর্ব অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।