পূর্ব লাদাখের বেশ কয়েকটি গুরুপূর্ণ এলাকা থেকে ইতিমধ্যেই সেনা সরিয়ে নিয়েছেন চিন। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে চিনের বিদেশ মন্ত্রকের তরফ থেকে জানান হয়েছে পূর্ব লাদাখ সীমান্তের উত্তাপ কমাতে ভারত ও চিন উভয় পক্ষই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ সীমারেখে থেকে সেনা সরাতে উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু চিন এটা বলেনি পরিবর্তে পিপিলস লিবারেশন আর্মির জমায়েত বাড়ছে হিমালচল প্রদেশ সীমান্তের উল্টোদিকে তিব্বতে। 

হিমাচল প্রদেশ ও চিন সীমান্তের শেষ জেলা ভারতের কিন্নোর। এই জেলার সীমান্তের কাছেই একটি রাস্তা তৈরি করতে দেখা গেছে চিনা সেনা বাহিনীকে। এই সীমান্তের ভারতের শেষ গ্রাম চরং। তিব্বতের দিকে  ট্যাঙ্গো ও যমরংয়ের খিমকুল্লা পাস অঞ্চলে  রাস্তা নির্মাণের পাশাপাশি চিনা সেনার তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় গ্রামবাসীরাই এই খবর জানিয়েছেন বলেও জানান হয়েছে সেনা সূত্রে। পাশাপাশি ওই এলাকায় চিনাদের একটি বড় অংশকেও মোতায়েন থাকতে দেখা গেছে। আর ওই এলাকাটি ভারতের দিকে চরং আর ছিটকুল এলাকার ঠিক উল্টোদিকে পড়ে। 

 

১৫ জুলাই সর্বশেষ স্যাটেলাইট চিত্রগুলি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। যাতে দেখা গেছে শেষ তিব্বতি গ্রামে রাস্তা নির্মাণে তৎপর হয়েছে চিনা সেনা। দিবাং গ্রাম স্থানীয়দের কাছে তাং নামে পরিচিত। আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকেএই দূরত্ব মাত্র ৩০ কিলোমিটার। গতবছর জুন অবধি এই এলাকায় কোনও রাস্তা ছিল না। পুরো এলাকায় চিনা সেনা বাহিনীর কোনও পেট্রোলিং পোস্টও ছিল না। চরং খাস গ্রামের আইটিবিপি পোস্ট থেকে যমরং পাস পর্যন্ত বর্তমানে চিনা সেনাদের টহল দিতে দেখা যাচ্ছে। 

চিনের পিপিলস লিবারেশন আর্মি ২০১৯ সালে দিবাং গ্রামের সামনে একটি রাস্তা নির্মাণের কাজ  শুরু করেছিল। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ২০১৯-এর নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই রাস্তা তৈরির কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল। গেরা এলাকা পর্যন্ত প্রায় ২০ রাস্তা গতবছর তৈরি করা হয়েছিল। 

চলতি বছরে কোভিড-১৯ মহামারীর আকার ধারণ করায় নির্মাণকাজ বাধা পেয়েছিল। বর্তমানে আবারও কাজ শুরু হয়েছে। এই রাস্তার কাজটি ২০২০ সালে জুনে পুনরায় শুরু হয়েছিল। 

এইটি সূত্র মনে করছে পিএলএ এক মাসের মধ্যে প্রায় ৯ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করে ফেলেছে। ১৫ জুলাই রাস্তাটি যমরংয়ের প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত তৈরি হয়েছিল।