অবশেষে আইনে পরিণত হয়েই গেল নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল ২০১৯। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বিলটিতে সম্মতিসূচক স্বাক্ষর করলেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। এই বিল পাসের ফলে এবার থেকে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে উদ্বাস্তু হয়ে আসা অমুসলিম ধর্মাবলম্বী শরণার্থীরা নাগরিকত্ব পাবেন।

সংসদের উভয় কক্ষে বিলটি পাশ হওয়ার পর তা পাঠানো হয়েছিল রাষ্ট্রপতির কাছে। তাতে স্বাক্ষর করে সম্মতি জানিয়ে দিয়েছেন কোবিন্দ। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সরকারি গোজেটে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই এই আইন কার্যকরী হয়েছে। এবার থেকে এই আইন অনুযায়ী ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষেরা আর বেআইনি শরণার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন না, তাঁরা এখন থেকে হবেন ভারতীয় নাগরিক। 

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলটি সোমবারই লোকসভায় পাশ হয়। রাজ্যসভায় পাশ হয় বুধবার। আগে নিয়ম ছিস, এদেশের নাগরিকত্ব পেতে হলে কমপক্ষে ১১ বছর ভারতে বসবাস করতে হবে। এই আইনে সেই সময়সীমা কমে হল ৫ বছর। তাছাড়া বেআইনি ভাবে ভারতে ঢোকা শরণার্থীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না হলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। 

এদিকে উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিতে এই আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত। তবে শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত অসমের ডিব্রুগড়ে কারফিউ শিথিল করা হয়েছে। তবে অসম  মেঘালয়, মিজোরাম ও ত্রিপুরার জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় এই আইন কার্যকর হচ্ছে না। এছাড়াও এই আইনের আওতা থেকে কেন্দ্র বাদ দিয়েছে যে সব জায়গায় ইনার পারমিট কার্যকর সেই অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড ও মিজোরামকে। বাদ পড়েছে মণিপুরও। এরপরেও অসম, ত্রিপুরা ও মেঘালয়ের শিলংয়ে এই আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে।