লোকসভায় পাশ হয়ে যাওয়ার পর রাজ্যসভার পরীক্ষাতেও কি উতরোতে পারবে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল? নিজেদের হাতে পর্যাপ্ত সাংসদ না থাকলেও বুধবার রাজ্যসভায় বিল পেশ হওয়ার পর অনেকটাই নিশ্চিন্ত অমিত শাহরা। বিজেপি শিবিরের দাবি, বিল পাশের জন্য প্রয়োজনের থেকে বেশি সংখ্যা রয়েছে তাদের হাতে। 

লোকসভায় ৩১১- ৮০ ভোটের ব্যবধানে সহজেই পাশ হয়ে গিয়েছিল নাগরিকত্ব বিল। এমনিতে রাজ্যসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ১২১ জন সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। বিজেপি শিবিরের দাবি ছিল, বিলের পক্ষে ১২৫ জন সাংসদের সমর্থন রয়েছে। তার উপর এ দিন রাজ্যসভার অধিবেশন শুরু হতে বোঝা যায়, চারজন সাংসদ অনুপস্থিত রয়েছেন। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা কমে হয় ১১৯।

বিজেপি শিবিরকে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে তামিলনাড়ুর এআইডিএমকে এবং ওড়িশার বিজু জনতা দল। জোট সঙ্গী না হলেও দুই দলই নাগরিকত্ব বিলে সমর্থন দিতে সম্মত হয়েছে। জোটসঙ্গী জেডিইউ এবং শিবসেনা লোকসভা বিলকে সমর্থন জানালেও পরে রাজ্যসভায় তাদের সমর্থন পাওয়া নিয়ে কিছুটা চিন্তা রয়েছে সরকার পক্ষের। কারণ দল সমর্থন করলেও তা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন জেডিইউ নেতা প্রশান্ত কিশোর। আর শিবসেনা বিলের বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। শেষ পর্যন্ত অবশ্য দুই দলই রাজ্যসভায় বিলকে সমর্থন জানাবে বলে আশাবাদী বিজেপি নেতৃত্ব। 

লোকসভায় পেশ হওয়ার পরে নাগরিকত্ব বিল নিয়ে প্রায় ছ' ঘণ্টা আলোচনা হয়েছিল। সেখানে রাজ্য়সভা বিল নিয়ে আলোচনার জন্য ছ' ঘণ্টা সময় বরাদ্দ করা হয়েছে। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে উত্তর পূর্ব ভারতে। তাতে অবশ্য আমল দিতে নারাজ কেন্দ্রীয় সরকার। লোকসভার মতো রাজ্যসভা থেকেও বিল পাশ করিয়ে তা আইনে পরিণত করতে বদ্ধপরিকর অমিত শাহরা। লোকসভার মতো রাজ্যসভা থেকেও  দিনের শেষে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাসিমুখেই বেরোতে পারবেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।