CJP Protest Update: রত্না সিং বলেন, “আমাদের আইনজীবীরা সম্পূর্ণভাবে আইনি বিষয়গুলির ভিত্তিতে তাঁদের বক্তব্য পেশ করেছেন। তা সত্ত্বেও, জনশান্তির জন্য কোনও ধরনের হুমকি ছিল—এমন প্রমাণের একটি অংশও কর্তৃপক্ষ উপস্থাপন করতে পারেনি।”
CJP Protest Update: SEM আদালতের কার্যক্রমকে প্রহসন বলে অভিযোগ ককরোচ জনতা পার্টির। দলের আটক নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকার হেফাজতের মেয়াদ বাড়াল পুলিশ। ককরোচ জনতা পার্টি আজ দিল্লিতে স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (SEM) আদালতের কার্যক্রমের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
দলের নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকার চলমান প্রতিরোধমূলক আটককে আইনি প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ প্রহসন এবং রাষ্ট্রের ক্ষমতার অপব্যবহারের উদাহরণ বলে অভিহিত করেছে দলটি।
কী বলল ককরোচ পার্টির নেতারা?
শুনানির পর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ককরোচ জনতা পার্টির আইনবিষয়ক প্রধান রত্না সিং বলেন, পুরো বিচারপ্রক্রিয়াটি গণতান্ত্রিক কণ্ঠস্বরকে দমন করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত একটি প্রহসনে পরিণত হয়েছে।
রত্না সিং বলেন, “আমাদের আইনজীবীরা সম্পূর্ণভাবে আইনি বিষয়গুলির ভিত্তিতে তাঁদের বক্তব্য পেশ করেছেন। তা সত্ত্বেও, জনশান্তির জন্য কোনও ধরনের হুমকি ছিল—এমন প্রমাণের একটি অংশও কর্তৃপক্ষ উপস্থাপন করতে পারেনি।”
তিনি আরও বলেন, “আশুতোষ ও সৌরভের বিচারবিভাগীয় হেফাজত (JC) শুরু হওয়ার পর CJP-র পক্ষ থেকে কোনও প্রতিবাদের ডাক দেওয়া হয়নি। তা সত্ত্বেও, তাঁদের মুক্তি দেওয়া হলে জনশান্তি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে রাজ্য সরকারের দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “আদেশ লেখার সময় SEM প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে আদালতকক্ষে ফোনে কথা বলেছেন। দেশের যুবসমাজ দেখছে, কীভাবে আইন ও প্রতিষ্ঠানগুলিকে প্রকাশ্যে অপব্যবহার করে তাঁদের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এই ধরনের পদক্ষেপ নাগরিকদের আরও শক্তিশালী করবে এবং জবাবদিহির দাবিতে তাঁদের আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ করে তুলবে।”
সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকার পক্ষে সওয়াল করা আইনজীবীরা আদালতে একাধিক গুরুতর পদ্ধতিগত অনিয়মের বিষয় তুলে ধরেন। তাঁরা জানান, পাঁচ দিনের প্রতিরোধমূলক হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন জামিনদারদের প্রয়োজনীয় সমস্ত নথিপত্র ও পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থা-সহ আদালতে হাজির করা হয়েছিল। কিন্তু মামলাটি শুনানির জন্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্য সরকার একটি নতুন আবেদন পেশ করে এবং জনশৃঙ্খলার প্রতি আসন্ন হুমকির অভিযোগ তুলে তাঁদের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন জানায়। অথচ এই দাবির সমর্থনে কোনও নির্দিষ্ট তথ্য, প্রমাণ বা নথিভুক্ত বক্তব্য পেশ করা হয়নি।
প্রতিরক্ষা আইনজীবীরা বলেন, “এটি সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধমূলক হেফাজতের বিষয়, যেখানে কোনও জিজ্ঞাসাবাদ বা তদন্তের প্রয়োজন নেই। তা সত্ত্বেও, শুধুমাত্র তাঁরা তাঁদের প্রতিবাদের অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন—এই আশঙ্কা থেকেই তাঁদের টানা ছয় দিন ধরে আটকে রাখা হয়েছে।”
তাঁরা আরও অভিযোগ করেন, আদালত অযৌক্তিক কারণ দেখিয়ে নতুন জামিনদারদের আবেদন খারিজ করেছে। কখনও বলা হয়েছে, জামিনদারদের ছবির সঙ্গে তাঁদের পরিচয়ের মিল নেই, আবার কখনও দাবি করা হয়েছে যে জামিনদারদের আটক ব্যক্তিদের উপর যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ নেই। অথচ প্রত্যেক জামিনদারকে প্রায় ১৫ মিনিট ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।
প্রতিরক্ষা আইনজীবীদের বক্তব্য অনুযায়ী, SEM-এর আদেশে কথিত আশঙ্কার কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। আদেশে কার্যত বলা হয়েছে, যেহেতু রাজ্য সরকার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে, তাই আটক ব্যক্তিদের হেফাজতেই থাকতে হবে।
প্রতিরক্ষা আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই আদেশকে অবিলম্বে উচ্চতর বিচারিক আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হবে।
ককরোচ জনতা পার্টি পুনরায় স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, বিলম্বের কৌশল বা প্রশাসনিক ভয় দেখানোর কোনও প্রচেষ্টাই দলের সাহস, কর্মী এবং সমর্থকদের মনোবল ভাঙতে পারবে না।
CJP-র দাবি, দলের দুই নেতাকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলির জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।








