মঙ্গলবার রাতে ফের একবার উত্তরপ্রদেশ পুলিশকে ধোকা দিয়ে পালালো কানপুর পুলিশ হত্যার প্রধান অভিযুক্ত তথা কুখ্যাত মাফিয়া বিকাশ দুবে। পুলিশ সূত্রে খবর, ফরিদাবাদের বাধকল চক এলাকায়, দিল্লি-মথুরা হাইওয়ের এক হোটেলে সে লুকিয়েছিল। কিন্তু পুলিশ সেখানে পৌঁছনোর আগেই সে পালায়। তবে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ কিছুটা হলেও সাফল্যের মুখ দেখেছে। বুধবার সকালে হিমাচল প্রদেশের হামিরপুরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী অমর দুবে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নির্দিষ্ট খবর পেয়ে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের অফিসারদের ৩০-৩৫ জনের একটি দল ওই হোটেলে অভিযান চালান। কিন্তু, তাঁরা পৌঁছনোর আগেই বিকাশ দুববে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশ অবশ্য তাঁর এক সহযোগীকে সেখান থেকে গ্রেফতার করেছে। সে জেরায় স্বীকার করেছে বিকাশ দুবে ফরিদাবাদের ওই হোটেলেই ছিল। হোটেলের মালিক-সহ কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। পুলিশ তাদের দৈনিক ব্যবসায়িক প্রতিবেদন (ডিবিআর) বাজেয়াপ্ত করেছে।

বুধবার ভোরে অবশ্য কিছুটা হলেও সাফল্যের মুখ দেখেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। গ্যাংস্টার বিকাশ দুবেকে ধরতে না পারলেও হিমাচল প্রদেশের হামিরপুরে এদিন তারা কোনঠাসা করে ফেলেছিল তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী অমর দুবে-কে। পুলিশ ঘিরে ফেলতেই সে মরিয়া হয়ে গুলি চালাতে শুরু করেছিল। পাল্টা গুলিতে পুলিশ তাকে খতম করে।

তবে বারবার কীভাবে বিকাশ দুবে পালিয়ে যাচ্ছে সেটাই উত্তরপ্রদেশ পুলিশ কর্তাদের কাছে প্রধান মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত সপ্তাহে বৃহস্পতিবার, কানপুরে তাকে ধরার জন্য অভিযান চালিয়েছিল পুলিশের একটি দল। কিন্তু, তিন দিক থেকে পুলিশদেরই ঘিরে ফেলে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল থেকে গুলি ছুড়েছিল বিকাশ ও তার দলবল। আট পুলিশ সদস্যের মৃত্যু হয়েছিল ওই ঘটনায়। তারপর থেকে সে পলাতক।

তদন্তে জানা গিয়েছে, পুলিশের মধ্য থেকেই তাঁকে কানপুরের অভিযানের আগাম সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল। এই অভিযোগে বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মী-কে বরখাস্ত করাার পরও কি সে কারোর কাছ থেকে খবর পেয়ে যাচ্ছে, এই সম্ভাবনাই ভাবাচ্ছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ-কে।