দেশে শুরু হয়েছে আনলক পর্ব। কিন্তু এই পর্যায়তেই সবচেয়ে বেশি ছড়াচ্ছে সংক্রমণ। প্রতিদিনউ প্রায় দৈনিক আক্রান্ত রেকর্ড গড়ছে। এই অবস্থায় মারণ ভাইরাসের সংক্রমণ আটকাতে একাধিক রাজ্য ও মেট্র শহর সেই লকডাউনের পথেই হাঁটছে। এবার তাতে নাম লেখাল পশ্চিমবঙ্গের প্রতিবেশী রাজ্য বিহারও। আগামী বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ১৬ জুলাই থেকে সম্পূর্ণ লকডাউন করা হবে বিহারকে। এই লকডাউন ৩১ জুলাই পর্যন্ত থাকবে বলে জানিয়েছেন বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সুশীল মোদী।

আরও পড়ুন: পর্যটকদের জন্য খুলে গেল ভূস্বর্গ কাশ্মীরের দরজা, তবে মেনে চলতে হবে এই শর্তগুলি

গত ২৪ ঘণ্টায় বিহারে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১,৪৩২ জন। এই নিয়ে রাজ্যে টানা ৩ দিন দৈনিক আক্রান্ত হাজারের ওপরে ছিল। যার ফলে রাজ্যটিতে মোট সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮,৮৫৩। এর পরেই নতুন করে লকডাউনে ফেরার সিদ্ধান্ত নেয় নীতিশ সরকার। এই সময়ে জরুরী পরিষেবা ছাড়া বাকি সমস্ত কিছুই রাজ্যে বন্ধ রাখা হবে।  

তবে কেবল বিহার নয়, লকডাউনের পথে হাঁটছে দেশের একাধিক রাজ্য। দেশের তথ্যপ্রযুক্তি রাজধানী বেঙ্গালুরুকে  মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে ২২ জুলাই সকাল ৫টা পর্যন্ত লকডাউন করে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। এরআগে গত সপ্তাহে ৩ দিন সম্পূর্ণ লকডাউনে ছিল যোগী রাজ্য উত্তরপ্রদেশ। লকডাউনের পথে হেঁটেছে পুনেও। তামিলনাড়ুর মাদুরাই শহরও রয়েছে লকডাউনে।

আরও পড়ুন: আনলক ভারতে বেড়েই চলেছে সংক্রমণ, মঙ্গলবার থেকে ফের সম্পূর্ণ লকডাউনে নিরুপায় বেঙ্গালুরু

এদিকে এবার করোনার থাকা পড়েছে দিল্লির রেল ভবনেও। রেলমন্ত্রকের কয়েকজন আধিকারিক সংক্রমণের শিকার হওয়ায় মঙ্গল ও বুধবার সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হচ্ছে রেলভবন। 

তেলেঙ্গনায় করোনা এবার প্রাণ কাড়ল প্রদেশ কংগ্রেসের সম্পাদক জি নরেন্দ্র যাদবের। এদিকে পঞ্জাবের মোহালিতে মারণ ভাইরাসের সংক্রমণের শিকার হলেন এবার অতিরিক্ত নগর দায়রা বিচারক। দেশে যেভাবে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে তাতে বিশেষজ্ঞদের কপালের ভাজ আরও চওড়া হচ্ছে। মঙ্গলবারও দেশে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২৮ হাজারের বেশি। যদিও প্রতি ১০০ জনে ৯৬ জনই সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে দাবি করছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক। বর্তমানে দেশে সুস্থতার হার বেড়ে হয়েছে ৬৩.০২ শতাংশ। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে ভারতে সক্রিয়া আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লক্ষ ১১ হাজার ৫৬৫।  মারণ ভাইরাসকে জয় করে সুস্থ  হয়ে উঠেছেন এখনও পর্যন্ত ৫ লক্ষ ৭১ হাজারেরও বেশি মানুষ।