বৃহস্পতিবার কংগ্রস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী দলের  সাংসদদের সঙ্গে ভার্চুয়ার বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। একটি সূত্র বলছে সেই বৈঠকেই নাকি প্রকাশ্যে আসে কংগ্রেস নেতৃত্বের মতোবিরোধ। ভার্চুয়াল বৈঠকটি প্রায় চার ঘণ্টা ধরে হয়েছিল। আর সেখানে কোনও কোনও রকম মন্তব্যই করেননি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। 

এই বৈঠকে মনমোহন সিং-এর রাজত্বকাল নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। তাতে তরুণ নেতাদের অভিযোগ,দ্বিতীয় ইউপিএ সরকারে যাঁরা অংশগ্রহণ করেছিলেন তাঁদেরই হারের দায়ভার গ্রহণ করা উচিৎ ছিল। কিন্তু তা করা হয়নি। পাশাপাশি তরুণ নেতাদের অভিযোগ ছিল দ্বিতীয় মেয়াদের সরকার দুর্ণীতিতে ভরপুর ছিল। পাশাপাশি  নীতিপঙ্গুতাও দেখআ গিয়েছিল। হারের পর কেন তা নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়নি। ওই বৈঠকে মনমোহন সিং উপস্থিত থাকলেও তিনি মুখ বন্ধ রেখেছিলেন বলেও জানিয়েছে সূত্রটি। 

তরুণদের নেতাদের কথায় অনেকেই চাইছেন রাহুল গান্ধী ফিরে আসুক। তার একমাত্র কারণ হল দলে কোনও নতুন কোনও মুখ তৈরি হয়নি।  কেন নতুন কোনও মুখ তৈরি হয়নি  সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখতে হবে বলেও দাবি করেছেন তরুণ সাংসদরা। তাঁদের কথায় গতবছর লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের দায়ভার মাথায় নিয়ে সভাপতির পদ ছেড়েছিলেন রাহুল গান্ধী। কিন্তু তারপর কেটে গেছে এক বছর। এতদিন অস্থায়ীভাবে সভাপতির পদ সামলাচ্ছেন সনিয়া। কিন্তু কেন এতদিনেও নতুন কোনও মুখ তৈরির কারর উদ্যোগ নেওয়া হল না। 

পাশাপাশি প্রবীণ কংগ্রস নেতাদের অভিযোগ চলতি মোদী সরকারের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক মন্দা, করোনা মহামারীর প্রতিরোধে ব্যর্থ, চিনা অগ্রাসনসহ একাধিক ইস্যু থাকলেও তা বিরোধী দল হিসেবে তা কংগ্রেস ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয়েছে। কেন লাগাতার আন্দোলনে কংগ্রেস ব্যর্থ হচ্ছে তাও খোঁজ করা জরুরি বলে মনে করেছেন তাঁরা। প্রবীন নেতৃত্বের মতে মোদীর বিরুদ্ধে কংগ্রেসের মন্তব্য বা আন্দোলন সবই বেশি ফিঁকে হয়ে গেছে। কংগ্রেসের আন্দোলন অনেকটাই অগোছালো বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকে। 

একটি সূত্র বলছে কংগ্রেস নেতা কপিল সিবাল বলেছেন কেন্দ্রীয় সরকারের পারফরমেন্স খুবই খারাপ। কিন্তু কংগ্রেস তার মোকাবিলায় কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তাও খতিয়ে দেখতে হবে। কেন বারবার কংগ্রেস হার মানছে তাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। 

সূত্রটি জানাচ্ছে এক তরুণ সাংসদ বলছেন এটি প্রবীন আর নবীনদের বিবাদ নয়। ইউপিএ আমলে কংগ্রেসের ব্যর্থতা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি দিল্লি ও মহারাষ্ট্রে কংগ্রেসের হার নিয়েও পর্যালোচনা প্রয়োদন রয়েছে। 

সূত্রের খবর, এক তরুণ নেতার কথায় অনেকেই চাইছেল রাহুল গান্ধী দলের দায়িত্ব নিক। এই যাঁরা এটা চাইছেন তাঁদের অনেকেই রাহুল গান্ধীর তরুণ ব্রিগেডের সদস্যদের মেনে নিতে পারেননি। তার প্রমান দেখা গেছে মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে। মধ্যপ্রদেশে দল ছেড়েছেন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া আর রাজস্থানে অশোক গেহলটের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন শচীন পাইলট। এঁরা দুজনেই রাহুল গান্ধীর ঘনিষ্ট বৃত্তে ছিলেন বলেও মনে করিয়ে দিয়েছেন ওই তরুণ সাংসদ। 

গতকালের এই বৈঠকের পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন সনিয়া গান্ধী। যদিও দিল্লির হাসপাতাল জানিয়েছেন আশঙ্কার কোনও কারণ নেই।