দীপাবলির দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে দেখা গিয়েছিল রাজস্থানের জয়সলমিরে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী বা বিএসএফ-এর লঙ্গওয়ালা ঘাঁটিতে। সামরিক পোশাকে সজ্জিত প্রধানমন্ত্রী জওয়ানদের সামনে বক্তৃতা দিয়ে তাঁদের উজ্জীবিত করেছিলেন। এবার তাঁর সেই পোশাক নিয়েই প্রশ্ন তুলল কংগ্রেস। এর আগে ১০ লক্ষ টাকা মূল্যের এক স্যুট পরার জন্য তাঁকে বিঁধেছিল বিরোধী দলগুলি।  

মঙ্গলবার  কংগ্রেসের যুব শাখা সামরিক পোশাকে সজ্জিত প্রধানমন্ত্রী মোদীর একটি ছবি টুইট করেছে। সঙ্গে ক্যাপশনে তারা প্রশ্ন তুলেছে, কোনও রাজনীতিবিদ কি সেনাদের মর্যাদাপূর্ণ উর্দি পরতে পারেন? সেটা কতটা উপযুক্ত? হিন্দিতে করা টুইটে যুব কংগ্রেস যুক্তি দিয়েছে নরেন্দ্র মোদী সেনাপ্রধানও নন, সেনার কোনও আধিকারিকও নন। একজন অসামরিক নেতা হয়ে সেনাবাহিনীর উর্দি পরাটা কি আদৌ উপযুক্ত?

দীর্ঘ ও কঠিন প্রশিক্ষণের পর ভারতীয় সেনার জংলা ছাপ উর্দি পরার সুযোগ পান নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। আর এই উর্দি বাহিনীর যে কোনও সদস্যের কাছে দারুণ সম্মানের। এই বছর টানা সপ্তমবার প্রধানমন্ত্রী মোদীকে দীপাবলির দিন সেনা সদস্যদের মধ্যে দেখা গিয়েছিল। সেখানে জওয়ানদের সামনে বক্তৃতা দেওয়ার সময় তাঁর পরণে সেই জংলাছাপ উর্দি ছিল। উর্দি পরে তাঁকে সেনা সদস্যদের সঙ্গে ছবিও তুলতে দেখা গিয়েছিল। এমনকী একটি সামরিক ট্যাঙ্কেও যাত্রী হয়েছিলেন সেনার উর্দি পরিহিত প্রধানমন্ত্রী। যে উর্দি পাওয়ার জন্য কঠোর সাধনা করতে হয় প্রত্যেক সেনা সদস্যকে, তা কী করে প্রধানমন্ত্রী অতি সহজেই পরে নিলেন, তাই নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস।

সেনার উর্দি পরা নিয়ে এর আগেই অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে তাঁকে 'ছদ্মবেশী প্রধানমন্ত্রী' বলেছিলেন কংগ্রেস নেতা তারিক আনোয়ার। সোমবারই তিনি টুইটারে অভিযোগ করেছিলেন, ভারত প্রথমবার নরেন্দ্র মোদীর মতো একজন ছদ্মবেশী প্রধানমন্ত্রী পেয়েছেন। অনুষ্ঠানের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে মোদী কখনও চা-ওয়ালার পোশাক পরেন, কখনও তাঁকে দেখা যায় ১০ লাখি স্যুটে, কখনও প্রহরীর পোশাকে, কখনও তিনি প্রধান সেবক, কখনও সাধু আবার কখনও তিনি সৈনিক - বলে ব্যঙ্গ করেছিলেন আনোয়ার।