পশ্চিম এশিয়ায় বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই সংসদে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বসেছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বৈঠকে উপস্থিত আছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান।
পশ্চিম এশিয়ায় বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই সংসদে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তাঁর সঙ্গে এই বৈঠকে যোগ দিয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত ডোভাল এবং চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (CDS) জেনারেল অনিল চৌহান। এর আগে, জয়শঙ্কর রাজ্যসভায় ভাষণ দেন এবং জানান যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ব্যক্তিগতভাবে পশ্চিম এশিয়ার এই সংঘাতের ওপর নজর রাখছেন।
পশ্চিম এশিয়া নিয়ে উদ্বেগ ভারতের
পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জয়শঙ্কর নিশ্চিত করেন যে সরকার ইরানে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ইতিমধ্যেই অ্যাডভাইজরি বা পরামর্শ জারি করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারতীয়দের সুরক্ষাই প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। জয়শঙ্কর বলেন, "প্রধানমন্ত্রী নিজে পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকগুলি একসঙ্গে কাজ করছে যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।" তিনি আরও জানান যে সরকার উপসাগরীয় অঞ্চলের সমস্ত ভারতীয়দের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। তেহরানে ভারতীয় দূতাবাস "পুরোপুরি চালু" আছে এবং সংঘাতে আটকে পড়া পড়ুয়াদের সবরকমভাবে সাহায্য করছে।
বিদেশমন্ত্রী সংসদকে জানান, দূতাবাস ইতিমধ্যেই বেশ কিছু পড়ুয়াকে "তুলনামূলক নিরাপদ জায়গায়" সরিয়ে নিয়ে গিয়েছে। এছাড়া, কাতার এবং জর্ডনের মতো দেশে আটকে পড়া ভারতীয়দের "নিরাপদে ফিরিয়ে আনার" জন্য জোরদার চেষ্টা চলছে। সমুদ্রপথে বাণিজ্যে এই সংঘাতের কী প্রভাব পড়েছে, সেই বিষয়ে একটি দুঃখজনক খবর দিয়ে জয়শঙ্কর রাজ্যসভাকে জানান, "আমরা দুজন ভারতীয় নাবিককে (মার্চেন্ট শিপিং) হারিয়েছি এবং একজন এখনও নিখোঁজ।"
এই সংকটের ভূ-রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক দিক তুলে ধরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, "এই সংঘাত ভারতের জন্য বিশেষভাবে উদ্বেগের। আমরা এই অঞ্চলের প্রতিবেশী, তাই পশ্চিম এশিয়ার স্থিতিশীলতা আমাদের জন্য খুব জরুরি।" তিনি সংসদকে মনে করিয়ে দেন যে প্রায় এক কোটি ভারতীয় উপসাগরীয় দেশগুলিতে থাকেন ও কাজ করেন। এছাড়া হাজার হাজার ভারতীয় পড়াশোনা বা চাকরির জন্য ইরানে রয়েছেন।
জয়শঙ্কর সতর্ক করে বলেন যে এই অঞ্চলটি ভারতের "জ্বালানি সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ", কারণ এখান থেকেই তেল ও গ্যাসের বড় জোগান আসে। তিনি আরও বলেন, "সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুতর সমস্যা এবং অস্থিরতার পরিবেশ তৈরি হওয়াটা একটা বড় চিন্তার বিষয়।" তাঁর কথায়, সংঘাত ক্রমশ বাড়ছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি "উল্লেখযোগ্যভাবে খারাপ হয়েছে"। মন্ত্রীর মতে, এই লড়াই এখন "অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে এবং ধ্বংসলীলা বাড়ছে", যার ফলে "স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এবং কাজকর্ম স্পষ্টভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।"
ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জয়শঙ্কর বলেন, "আলোচনা এবং কূটনীতিই সব পক্ষের জন্য উত্তেজনা কমানোর একমাত্র পথ।" তিনি সংসদকে মনে করিয়ে দেন যে সরকার গত মাসেই এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। তিনি বলেন, "আমাদের সরকার ২০ ফেব্রুয়ারি একটি বিবৃতি জারি করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল এবং সব পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছিল। আমরা এখনও বিশ্বাস করি যে উত্তেজনা কমাতে আলোচনা ও কূটনীতির পথই অনুসরণ করা উচিত।" সংসদে যখন তিনি এই কথাগুলো বলছিলেন, তখন বিরোধীরা স্লোগান দিচ্ছিলেন।


