প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ওয়েবসাইট থেকে পূর্ব লাদাখে চিনা অনুপ্রবেশের তথ্য উধাও হয়ে যাওয়া নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে এক হাত নিল কংগ্রেস। কংগ্রেসের অভিযোগ তথ্য সরিয়ে ফেলে বা মুখে ফেলে আসল ঘটনা বদল করা যাবে না। কংগ্রেস নেতৃত্বের আগেই অবশ্য রাহুল গান্ধী নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। তিনি অভিযোগ করেন চিনা অনুপ্রবেশ নিয়ে মিথ্যা কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। 

রাহুল গান্ধী বলেন চিন ভারতের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু ভারতের প্রধানমন্ত্রী চিনের নামটুকু নিতে ভয় পাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন ওয়েবসাইট থেকে দলিল দস্তাবেজ সরিয়ে ফেলে একথা কখনই অস্বীকার করা যায়না চিন ভারতীয় সীমানায় মধ্যেই অবস্থান করছে। 

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ওয়েবসাইটে যে তথ্য ছিল তা অবশ্য প্রমান করে চিনা অগ্রাসন শুরু হয়েছে মে মাসের শুরুর থেকে। ওই নথিতে বলা হয়েছিল ৫ মে ২০২০ থেকে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার পেরিয়ে বিশেষত গালওয়ান এলাকায় ভারতের দিকে দেখা গেছে চিনা আগ্রাসন। ১৭-১৮ মে  চিনের দিক থেকে কুংরং নালা, গোগরা ও প্যাংগং তসো হ্রদের উত্তর প্রান্তে সীমান্ত লঙ্ঘন করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণের ওয়েব সাইটে নতুন কী বিভাগে 'এলএসিতে চিনা আগ্রাসন' শিরোনামে একটি নথিতে এমনটাই দাবি করা হয়েছিল। 


প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ওয়েব সাইট থেকে উধাও হয়ে যাওয়া নথিকে হাতিয়ার করেন কংগ্রেস নেতা অজয় মাকেন। তিনি বলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের নথি বলছে মে মাস থেকেই অনুপ্রবেশ শুরু হয়েছে। অথচ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সর্বদলীয় বৈঠকে বলেছিলেন কেউ ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেনি। কেউ ভারতীয় জমি অধিগ্রহণ করেনি। কিন্তু এটা কী করে সম্ভব হয়েছে। কংগ্রেস নেতার আরও অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। পাশাপাশি তাঁর আরও প্রশ্ন প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দলিলটি ঠিক ছিল না প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য? 

কংগ্রেস মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালও বিষয়টি উত্থাপন করেন। তাঁর অভিযোগ পূর্ব লাদাখ সীমান্ত চিনা সেনা যত এগিয়ে আসছে ততই পিছিয়ে আনা হচ্ছে ভারতীয় সেনাদের। প্যাংগংএর ৪-৮ নম্বর ফিঙ্গার এলাকায় চিনা সেনার টহল বেড়েছে। কিন্তু এই এলাকায় টহল দেওয়া বন্ধ করছে ভারত। আগামী দিনে কেন্দ্রীয় সরকার কী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চাইছে তাও জানতে চেয়েছেন তিনি। সংসদেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনার দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস।