১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষে বাংলায় ২০ লক্ষ মানুষ অনাহার, অপুষ্টি ও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন। আর তাতের সেই দুর্ভোগ নিয়েই বিজন ভট্টাচার্য লিখেছিলেন কালজয়ী নাটক নবান্ন। সেই নাটকের একটি দৃশ্যে নাটকের অন্যতম পুরুষ চরিত্রকে দেখা গিয়েছিল ডাস্টবিনে কুকুরের সঙ্গে খাবার নিয়ে লড়াই করতে। কুকুরের কামড়ে ক্ষতবিক্ষত হয়েছিল তার হাত। করোনাভাইরাস লকডাউনের জেরে নাটকের সেই দৃশ্য আরও একবার দেখা গেল বাস্তবের পৃথিবীতে। আগ্রার রাস্তায় পড়ে যাওয়া দুধ চেটে খেতে দেখা গেল একপাল কুকুর ও একটি মানুষকে।

ভারতের গর্ব তাজমহল। ট্রাম্প পরিবারকেও ঘটা করে তাজমহল দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলেন যোগী আদিত্যনাথ। সোমবার সকালে, সেই তাজমহল থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে, আগ্রার রামবাগ চৌরাহায় এই ঘটনা ঘটে। ওই রাস্তা দিয়ে যেতে গিয়ে একটি দুধের গাড়ি উল্টে যায়। তার থেকে রাস্তায় দুধের স্রোত বয়ে যাচ্ছিল। রাস্তার কুকুররদের একটা দল সেই দুধ চেটে চেটে খাচ্ছিল। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে তাদের সঙ্গে যোগ দেন। দেখা যায় একটি ছোট মাটির পাত্রে যতটা সম্ভব দুধ তোলার চেষ্টা করছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গত মাসে আগাম কোনও সতর্কতা ছাড়াই, আচমকা ২১ দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছিলেন। মঙ্গলবার সেই সময় শেষ হচ্ছে। তবে এই সময় আরও বাড়ানোটা প্রায় নিশ্চিত। কিন্তু এই লকডাউন, সারা দেশে লক্ষ লক্ষ মানুষকে দারিদ্র্য ও চরম ক্ষুধার মুখে ঠেলে দিয়েছে। গত কয়েকদিনে কচু পাতা সিদ্ধ করে খাওয়া, চারদিন না খেতে পেয়ে পিত বমি করতে করতে কিশোরের মৃত্যু, সন্তানদের মুখে কোনও খাবার তুলে না দিতে পেরে পাঁচ ছেলে মেয়েকে মা গঙ্গায় নিক্ষেপ করেছেন - এমন ভয়াবহ সব অনাহারের ছবি সারা দেশ থেকে উঠে এসেছে।

এবার ৪৩'এর মন্বন্তরকে মনে করালো আগ্রার ঘটনা। তার আগে মাইলে পর মাইল হেঁটে পরিযায়ী শ্রমিকদের ভিনরাজ্য থেকে ঘরে ফিরতে দেখেছে গোটা ভারত। এইসব ঘটনা কিন্তু, প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে, সত্যিই সরকার যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়ে লকডাউন ঘোষণা করেছিল তো? নাকি বিরোধীরা যে পরিকল্পনাহীন লকডাউন-এর অভিযোগ করছেন, সেটাই সত্যি? প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার সকালে ফের জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন। লকডাউন আরও বাড়াতে গেলে, এই বিষয়গুলির সমাধান কিন্তু তাঁকে করতেই হবে। নাহলে, করোনার থেকে বড় হয়ে দেখা দিতে পারে অনাহারের যাতনা।