Asianet News BanglaAsianet News Bangla

কর্নাটকে গণকবর, মাটিতে জ্যান্ত পুঁতে দেওয়া হল ৬০০০ মুরগি

খোঁড়া হল বড় গর্ত

ট্রাকে করে আনা হল ৬০০০ মুরগি

জ্যান্তই কবর দেওয়া হল তাদের

করোনাভাইরাস আতঙ্কেই নাকি এই ঘটনা

 

Coronavirus panic impacts sale, Karnataka poultry farmer buries alive 6,000 chickens
Author
Kolkata, First Published Mar 11, 2020, 4:31 PM IST
  • Facebook
  • Twitter
  • Whatsapp

ভারতে ক্রমেই বাড়ছে করোনাভাইরাস-এর বিপদ। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছড়াচ্ছে গুজব-ও। করোনার কবল থেকে যে পশুপাখিদেরও মুক্তি নেই, তা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত। ভারতে করোনাভাইরাস নিয়ে গুজবের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে পোল্ট্রি শিল্পে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় হাস-মুরগি খাওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সর্বত্র মুরগি চাষীদের মাথায় হাত। অবস্থা এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে কর্নাটকের এক পোলট্রীতে সম্প্রতি হাজার হাজার মুরগিকে জ্যান্ত অবস্থাতেই কবর দেওয়া হল।

করোনাভাইরাস নিয়ে গুজবের মধ্যে অন্যতম হল মাংস বা আমিষ খেলে নাকি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। হিন্দু মহাসভা-সহ একাধিক হিন্দুত্ববাদী সংগঠন থেকে রীতিনতো আমিষ ভক্ষণের বিরুদ্ধে প্রচারও করা হয়েছে। চক্রপানি মহারাজ তো সরাসরি চিনারা আমিষ খান বলেই সেই দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে বলে বিবৃতি দিয়েছিলেন। এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে মাংসের বিশেষ করে মুরগির মাংসের চাহিদা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে।

আর এই বিপুল ক্ষতির হাত থেকেই বাঁচতে সম্প্রতি কর্নাটকের বেলগাভির এক পোল্ট্রি ব্যবসায়ী-কে প্রায় ৬,০০০ মুরগি-কে জ্যান্ত অবস্থায় গণকবর দিতে দেখা গিয়েছে। ওই ব্যবসায়ীর নাম  নাজির আহমেদ মাকান্দার। তিনি জানিয়েছেন করোনা আতঙ্কের আগে একেকটি মুরগি ৫০ থেকে ৭০ টাকা প্রতি কেজি দরে বিক্রি হত। কিন্তু, করোনাভাইরাস আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে দাম কিলো প্রতি ৫ থেকে ১০ টাকায় নেমে গিয়েছে।

নুলসুরের গোকাক তালুকের এই ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, মুরগি গুলিকে খাওয়ানো দাওয়ানো ও ওষুধের পিছনে তাঁর প্রায় ছয় লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছিল। কিন্তুস এখন কেজি ২ ওজনের একেকটি জীবন্ত মুরগি থেকে তার মাত্র ২৫ টাকা মতো আয় হচ্ছে। তাই এত ব্যয় করে মুরগিগুলির রক্ষণাবেক্ষণ করা তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। এছাড়া বিক্রি নেই বলে তার বাড়িতে গাদা গাদা মুরগি জমে থাকছিল। যা থেকে সংক্রমণ ছড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছিলেন তিনি। তাই তাঁর পোলট্রির কিছুটা দূরে তিনি একটি বড় গর্ত খুঁড়ে একটি ট্রাকে করে এনে মুরগিগুলিকে জীবিত অবস্থাতেই কবর দেন।

ওই গণ কবর দেওয়ার ঘটনার একটি ভিডিও-ও তোলেন তিনি। পোল্ট্রি ব্যবসায়ীদের দুর্দশা বিশ্বের সামনে তুলে ধরার জন্য সেই ভিডিও তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন। ভিডিওটি সেই থেকে ভাইরাল হয়েছে। অনেকেই এরকম নির্বিচারে পাখিদের হত্যা করা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তবে অনেকেই পোলট্রি ব্যবসায়ীদের এই দূরবস্থার কথাও উল্লেখ করেছেন। করোনাভাইরাসের ভয়ে ভারতের পোল্ট্রি শিল্প ব্যাপক মার খেয়েছে। মুরগির পাশাপাশি পাঁটার মাংসের দামও অনেকটাই নেমে গিয়েছে। অনেকে মাংস খাওয়া ছেড়ে দিয়ে নিরামিষ এবং কৃত্রিম মাংস খেতে শুরু করেছেন।

 

Follow Us:
Download App:
  • android
  • ios