ভারতীয় রেলেও পৌঁছে গেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ। গত ১৩ মার্চ দিল্লি থেকে রামগুন্দম একটি ট্রেনে ভ্রমণ করা আট যাত্রীর দেহে এই ভাইরাস ধরা পড়েছে। এদিনে শনিবার হাতে কোয়ারেন্টাইন স্ট্যাম্প মারা দিল্লির এক দম্পতিকে নামিয়ে দেওয়া হয় রাজধানী এক্সপ্রেস থেকে। সেই সঙ্গে করোনাভাইরাস-এর মোকাবিলায় বাতিল করা হয়েছে বহু ট্রেন। সেই সঙ্গে বাতিল টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ করেছে রেলমন্ত্রক।

ভারতীয় রেলে প্রতিদিন অন্তত ৩৫ কোটি মানুষ যাতায়াত করেন। কাজেই রেলপথে একবার করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে ভারতে কোভিড-১৯ রোগ মহামারীর রূপ নিতে বেশি সময় লাগবে না। এদিন রেলমন্ত্রকের পক্ষ থেকে টুইট করে যে খবর জানানো হয়, তাতে সেই আশঙ্কাই বেড়েছে। এদিন মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ১৩ মার্চ এপি সম্পর্ক ক্রান্তি এক্সপ্রেসে ভ্রমণ করা ৮ যাত্রীর দেহে শুক্রবার কোভিড -১৯ এর উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে। তাঁরা দিল্লি থেকে রামগুন্দম-এ এসেছিলেন। যাত্রীদের নিজেদের ও সহনাগরিকদের সুরক্ষার জন্য অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে মন্ত্রক।

মন্ত্রকের সেই পরামর্শ যদিও কেই বা কানে তুলছে? শনিবারই দিল্লিগামী বেঙ্গালুরু সিটি-নয়াদিল্লি রাজধানীতে রাজধানী এক্সপ্রেস-এ 'হোম কোয়ারেন্টাইন' স্ট্যাম্প মারা এক দম্পতিকে ধরে ফেলেন সহযাত্রীরা। সেকেন্দরাবাদ স্টেশন থেকে তাঁরা ট্রেনে উঠেছিলেন। জানা গিয়েছে স্বামীর হাতের উপর ওই সিল মারা ছিল। বিমানবন্দরে সন্দেহভাজনদের পর্যবেক্ষণ করার জন্য বাড়িতে স্ববিচ্ছিন্নতায় থাকার পরামর্শ দিয়ে ওই সিল মারা হচ্ছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনিবার সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে ট্রেনটি তেলেঙ্গানার কাজিপেট স্টেশনে পৌঁছালে ওই ব্যক্তি হাত ধুতে যান। সেই সময়ই এক সহযাত্রীর চোখে ওই 'হোম কোয়ারেন্টাইন'-এর ছাপ ধরা পড়ে। তারপর তিনি অন্যান্য সহযাত্রীদের জানিয়ে বিষয়টি ট্রেনের টিকিট চেকার-এর কানে তোলেন। এরপর ট্রেনটি কাজিপেট-এই থামিয়ে ওই দম্পতিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কামড়াটি তালাবদ্ধ করে শীততাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তারপর চলে স্যানিটাইজড করার প্রক্রিয়া। সেইসব করে বেলা ১১.৩০ মিনিটে ফের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় ট্রেনটি।

অন্যদিকে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করতে বহু ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। রবিবার জনতা কার্ফুর দিন কোনও ট্রেনই চলবে না। ফলে যাত্রীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছে বাতিল টিকিটের টাকা ফেরত নেওয়ার। এতে করে করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই স্টেশনে স্টেশনে রেলের টিকিট কাউন্টারগুলিতে ব্যাপক ভিড় জমছে। তাতে সংক্রমণের আশঙ্কা আরও বাড়ছে। তাই রেল মন্ত্রকের পক্ষ থেকে যাত্রীদের পিআরএস কাউন্টার ব্যবহার করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। পিআরএস কাউন্টার থেকে টিকিটের টাকা ফেরত  নেওয়ার নিয়মও শিথিল করা হয়েছে।