আচমকাই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছিল চল্লিশ লক্ষ টাকা। পেশায় এলআইসি এজেন্ট তিরুপুরের বাসিন্দা গুণসুখরণ ভেবেছিলেন, হয়তো ভাগ্যদেবীই একটু বেশিই সহায় হয়েছেন। তাই আগুপিছু বেশি না ভেবেই গোটা টাকাটাই মেয়ের বিয়ে এবং সম্পত্তি কিনে খরচ করে ফেলেন ওই এলআইসি এজেন্ট এবং তাঁর স্ত্রী। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ওই বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করে তিন বছরের জন্য হাজতবাস করতে হবে ওই দম্পতিকে। 

একটি সর্বভারতী ইংরেজি দৈনিকের খবর অনুযায়ী, এমনই কাণ্ড ঘটেছে তামিলনাড়ুর তিরুপুরের বাসিন্দা পেশায় এলআইসি এজেন্ট ভি গুণশেখরন এবং তাঁর স্ত্রী রাধার সঙ্গে। স্থানীয় একটি আদালত সোমবার ওই দম্পতিকে তিন বছর কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে। 

আরও পড়ুন- কানাডায় চাকরির নামে সাড়ে ৭ লাখ টাকার প্রতারণা

জানা গিয়েছে ২০১৫ সালে ভি গুণশেখরনের নামে থাকা একটি অ্যাকাউন্টে ভুল করে চল্লিশ লক্ষ টাকা জমা পড়ে যায়। কোথা থেকে সেই টাকা এল, কেনই বা এল, সে সম্পর্কে খোঁজ নেননি ওই এলআইসি এজেন্ট এবং তাঁর স্ত্রী। যে চল্লিশ লক্ষ টাকা ওই এলআইসি এজেন্টের অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছিল, তা আসলে সরকারি টাকা। জানা গিয়েছে, সাংসদ তহবিল থেকে এলাকা উন্নয়নের জন্য ওই টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। কিন্তু পূর্ত দফতর থেকে কাজ করার জন্য ওই টাকা এক এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারকে পাঠানোর সময়ই বিপত্তি বাঁধে। ভুলবশত টাকা জমা পড়ে যায় গুণশেখরনের অ্যাকাউন্টে। কারণ তিরুপুরের যে কর্পোরেশন ব্যাঙ্কের শাখায় ওই এলআইসি এজেন্টের অ্যাকাউন্ট ছিল, সেই ব্যাঙ্কেই গুণশেখরনের অ্যাকাউন্ট ছিল। ফলে টাকা পাঠানোর সময় অ্যাকাউন্ট নম্বর উল্লেখ করতে গিয়ে সামান্য ভুলচুকেই গোটা টাকা চলে আসে গুণশেখরনের অ্যাকাউন্টে। 

বিষয়টি ধরা পড়তেই খোঁজ শুরু করে ব্যাঙ্ক কর্তারা। তখনই তাঁরা বুঝতে পারেন, টাকা জমা পড়ার কয়েকদিনের মধ্যেই তা তুলে ফেলেছেন গুণশেখরন। জানা গিয়েছে, সম্পত্তি কেনার পাশাপাশি ওই টাকার একটা অংশ মেয়ের বিয়েতেও খরচ করেন ওই এলআইসি এজেন্ট। 

ওই এলআইসি এজেন্টের কাছে টাকাও ফেরত চায় ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। কিন্ত প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা ফেরাননি ওই এলআইসি এজেন্ট। ২০১৫ সালে ওই এলআইসি এজেন্টের নামে পুলিশে অভিযোগ জানানো হয় ব্যাঙ্কের তরফে। টাকা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে আগাম জামিন নেন গুণশেখরন এবং তাঁর স্ত্রী। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টাকা মেটাতে পারেননি তাঁরা। ব্যাঙ্কের তরফে আদালতে গুণশেখরনের নামে প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়। এর পরেই ওই দম্পতিকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারক।