বিশ্ব জুড়ে করোনা মহামারীতে এখনও পর্যন্ত প্রাণ গিয়েছে বহু চিকিৎসক সহ স্বাস্থ্যকর্মীর। করোনা আক্রান্ত মানুষের সেবা করতে গিয়ে তাঁরা নিজেরাই কখন শিকার হয়ে পড়েছেন মারণ ভাইরাসের। তেমনি গত কয়েকমাস ধরে অক্লান্ত ভাবে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা করে যাচ্ছিলেন চিকিৎসক মঞ্জুনাথ। কিন্তু প্রয়োজনের সময় তিনিই নিজেই চিকিৎসা পেলেন না। তিন তিনটি হাসপাতাল ঘুরে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হল বেঙ্গালুরুর বছর পঞ্চাশের এই করোনা যোদ্ধার।

আরও পড়ুন: তামিলনাড়ুর রাজভবনে এবার করোনার হানা, একসঙ্গে আক্রান্ত ৮৪ জন কর্মী

 বেঙ্গালুরু থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে রামনগর জেলার প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কোভিড আক্রান্তদের চিকিৎসা করছিলেন ডঃ মঞ্জুনাথ। রাতদিন করোনা আক্রান্তদের সেবা করতে গিয়ে গত মাসের শেষের দিকে প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। দেশে করোনার উপসর্গ দেখা দেওয়ায় নিজেই থেকেই করোনা টেস্ট করান চিকিৎসক। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার আগেই চিকিৎসকের অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকায় তাঁকে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।  কিন্তু এমনই দুর্ভাগ্য করোনার রিপোর্ট না থাকায় তাঁকে কোনও হাসপাতালই ভর্তি নেয়নি।

একটা, দুটো নয় পরপর তিনটি বেসরকারি হাসপাতাল ‘বেড নেই’, ‘ভেন্টিলেটর নেই’ বলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসক মঞ্জুনাথকে ফিরিয়ে দেয়। এরপর একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হলেও তাঁর  শারীরিক অবস্থা আরও সঙ্কটজনক হয়। পরিবার ঠিক করে সেখান থেকে তাঁকে বিএমসিআরআই-তে ভর্তি করা হবে। কিন্তু চিকিৎসকের ফুসফুস সংকুচিত হতে থাকার কারণে সমস্যা আরও বাড়ে।  মঞ্জুনাথকে বাঁচাতে তড়িঘড়ি সাইকোথেরাপিস্টের জোগাড় করতে বলা হয়। এদিকে সংক্রমণের ভয়ে  একের পর সাইকোথেরাপিস্টরা কোভিড ওয়ার্ডে ঢুকতে অস্বীকার করেন। এরপর একজন বেসরকারি সাইকোথেরাপিস্ট পিপিই পরে করোনা ওয়ার্ডে ঢুকতে সম্মত হন। তবে বিএমসিআরআই-তে থেরাপি শুরুর আগেই মৃত্যু হয় ওই করোনা যোদ্ধা চিকিৎসকের।

আরও পড়ুন: পুরুষশাসিত দেশে মৃত্যু প্রায় সাড়ে ৪ গুণ বেশি, কোন মন্ত্রে মারণ ভাইরাসকে জয় করছেন মহিলা প্রধানরা

কয়েকদিন ভেন্টিলেশনে রেখেও মঞ্জুনাথকে বাঁচানো যায়নি। চিকিৎসক হয়েও হাসপাতালে বেড না পাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দেন মঞ্জুনাথের শ্যালক নগেন্দ্র। যিনি নিজেও পেশায় চিকিৎসক।  এদিকে ২ দিন আগেই  চিকিৎসক মঞ্জুনাথের  বাবাও করোনায় মারা যান। এমনকি তাঁর স্ত্রী এবং পুত্রেরও করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে।