এ এক অদ্ভূত সময়। একদিকে চাঁদে চন্দ্রযান পাঠাচ্ছে ভারত। আবার একই সময়ে সেই ভারতেই বিভিন্ন কাল্পনিক ধারণাকে প্রমাণিত বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব বলে চালানো হচ্ছে। তাও আবার যে কেউ নয়, একেবারে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। ভারতের আয়ুষ মন্ত্রক অর্থাৎ আয়ুর্বেদ, যোগ, ইউনানি সিদ্ধা এবং হোমিওপাথি মন্ত্রক ক্যানসারের চিকিৎসা ও ওষুধ তৈরি করার জন্য গোমূত্র-কে ব্যবহার করার কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান প্রতিমন্ত্রী অশ্বিনী কুমার চৌবের মতে পৃথিবীর বহু ওষুধই নাকি তৈরি হয় গোমূত্র দিয়ে। ক্যানসারের মতো দুরারোগ্য রোগও নাকি সেড়ে যায় গোমূত্র দিয়ে তৈরি ওষুধেই। তাই তিনি গোমূত্র সংরক্ষণ নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করছেন।

তবে তিনি প্রথম নন দীর্ঘদিন ধরেই গোমূত্রে ঔষধি গুণ রয়েছে বলে একটি ধারণা প্রচলিত রয়েছে। তবে বিজ্ঞানীরা বহু গবেষণা করেও কিছু খুঁজে পাননি। গবেষণায় জানা গিয়েছে, গোমূত্রে সোজিয়াম, পটাশিয়াম, ক্রিয়েটিনিন, ফসফরাস, এপিথেলিয়াল সেলস -এর মতো খণিজ পদার্থে সম্বৃদ্ধ। কিন্তু এর কোনওটিরই ক্যানসার সাড়াবার মতো কোনও গুণ নেই। বস্তুত বিজ্ঞানীরা, ক্যানসার বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে এই ধরণের গুজব রটানোর বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, এই বিশ্বাস থেকে অনেকেই প্রথমেই ক্যানসার বিশেষজ্ঞের কাছে রোগীদের না নিয়ে এসে গোমূত্র খাওয়ান। পরে অবস্থা যখন খুব খারাপ হয়ে যায়, তখন তাঁদের নিয়ে আসা হয় চিকিৎসকের কাছে। সেই সময় আর কিছুই করার থাকে না।

লোকসভা নির্বাচন চলাকালীন, বিজেপি সাংসদ প্রজ্ঞা ঠাকুরও দাবি করেছিলেন পাঁচটি বিভিন্ন রকমের গোজাত উপাদান মিশিয়ে খেয়েই তাঁর স্তন ক্যানসার সেড়ে গিয়েছে। কিন্তু লখনউ-এর রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালের ডাক্তাররা সেই দাবি নস্যাত  করে জানিয়েছিলেন ২০০৮ সালে মুম্বইয়ের এক হাসপাতালে প্রজ্ঞা প্রথমবার অপারেশন করিয়েছিলেন। তারপর ২০১২ সালে আরও একবার তিনি অপারেশন করান। এইবার স্বয়ং স্বাস্থ্যমন্ত্রীই এইরকম দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করে বসলেন।