উত্তরাখণ্ডে উচ্চবরাণের পাশে খেতে বসার অপরাধে মরতে হয়েছিল ২৩ বছর বয়সি এক তরতাজা যুবককে। সেই ঘটনার পরে দু সপ্তাহ পেরোতেই আবার হিংসা। এবার একজন দলিত ঘোড়ায় চড়ে বিয়ে করত এসেছে, এই 'অপরাধে' গোটা দলিত সম্প্রদায়কে বয়কট করল উচ্চবর্ণের গ্রাম। ২০১৯ সালের ভারতবর্ষ! জাতপাতের রাজনীতি স্তম্ভিত করেই চলেছে সভ্যতাকে।
এবারের ঘটনাস্থল গুজরাটের কাজকোটের মেহসানার গ্রাম। সেখানেই ২৪ বছরের যুবক মেহুল পারমার বিয়ে করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু দলিত হয়ে ঘোরায় চড়ে বিয়ে করতে আসা! এই 'অপরাধ' ক্ষমা করতে পারেনি গ্রামের উচ্চবর্ণের মানুষ। তাই রীতিমতো খাপ পঞ্চায়েত বসিয়ে বয়কট! বলা হয় একজন দলিতের কখনওই ঘোড়ায় চড়ে আসার অধিকার নেই। 
এখানেই শেষ নয়, বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত আমেদাবাদ নিবাসী ওই যুবককে ৫০০০ টাকা জরিমানা করে ওই গ্রামীণ সরপঞ্চ। বরযাত্রীদের সমস্ত প্রয়োজনীয় জিনিস যেমন দুধ, খাবারও বিক্রি করতে রাজি হয়নি স্থানীয় দোকানদাররা। বলা বাহুল্য বয়কট করা হয় ওই দলিত যুবকের সঙ্গে আসা তাঁর আত্মীয় পরিজনদের।
বৃহস্পতিবার অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় প্রশাসনের আধিকারিকরা। গ্রামীণ সরপঞ্চ ভিনুজি  ঠাকুর, ডেপুটি বলদেও ঠাকুরপ- সহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 
প্রসঙ্গত এই প্রথম নয়, দেশে ক্রমাগতই বেড়েছে দলিতদের ওপর অত্যাচার। কখনও চোর অভিযোগে পিটিয়ে মারা, কখনও জেলের ভিতরেই দলিত মৃত্যু, কখনও বা উচ্চবর্ণের পাশে বসে খাওয়ার অপরাধে পিটিয়ে মারা বারবার সংবাদ শিরোনাম হয়েছে। সেই তালিকাতেই নতুন সংযোজন এদিনের ঘটনা। ভারতে জাতপাতের রাজনীতি কম বন্ধ হবে, তা ভারতভাগ্যবিধাতাই জানেন।