সময় যত গড়াচ্ছে ততই সামনে আসছে প্রাকৃতিক তাণ্ডবের ভয়ঙ্কর ছবি। গত রবিবার হিমবাহ ফেটে গিয়ে তুষার ধস আর প্রবল বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল উত্তরাখণ্ডের চামোলি। এখনও পর্যন্ত স্বাভাবিক হয়নি পরিস্থিতি। এরই মধ্যে সামনে এল এক ভয়ঙ্কর ছবি। উপগ্রহ চিত্রে দেখাযাচ্ছে প্রাকৃতির বিপর্যয়ের কারণে তৈরি হয়েছে একটি হ্রদ। প্রতিরক্ষা গবেষণা উন্নয়ন সংস্থা ও জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা হ্রদটির দিনে নজর রয়েছে। সদ্যো তৈরি হওয়া এই হ্রদটি ভয়ঙ্কর বলেও দাবি করা হয়েছে প্রশাসনের তরফ থেকে। সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের ফ্লাড ফোরকাস্টের তরফ থেকেই তৈরি হওয়ার হ্রদটির কথা স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। সংস্থার পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান হয়েছে, উত্তরাখণ্ডের চামোলির ঋষিগঙ্গা নদীর ওপর এটি হ্রদ তৈরি হয়েছে। এটির দৈর্ঘ্যে ৩৫০ মিটার। লম্বায় ৬০ মিটার। এর ঢাল প্রায় ১০ ডিগ্রি। 

ইতিমধ্যেই লেকটির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ড্রোন সহ অন্যান্য প্রযুক্তির মাধ্যমে লেকটির সঠিক অবস্থান নির্ণয় করা হয়েছে। যে এলাকয় লেকটি তৈরি হয়েছে তার স্থানয়ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যে জায়গায় লেকটি তৈরি হয়েছে তার স্থলভাগে কী রয়েছে তাও মূল্যায়ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা জানিয়েছেন। 
 

উপগ্রহ চিত্র দেখে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন ঋষিগঙ্গা নদীর ওপর একটি ব্লক তৈরি হয়েছে। মূলত সেটি রন্টিনদীর সঙ্গে গিয়ে মিশত। বুধবার থেকেই একটি জলভাগের সন্ধান পাওয়া গেছে। জলের চাপে হাইডেল প্রজেক্টের ধ্বংসাবশেষের একটি দেওয়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। আর সেটি যদি হয় তাহলে আবারও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছে উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা। 

এনডিআরএফ-এর পক্ষ থেকে জানান হয়েছে তারা এই মুহূর্তে হ্রদের দৈর্ঘ্য প্রস্থ ও ধ্বংসাবশেষের প্রাচীর পরীক্ষা করা হচ্ছে। পর্যবেক্ষণে গিয়েছিলেন গাড়ওয়াল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকও। তিনিও হ্রদটিকে বিপজ্জনক বলে চিহ্নিত করেছেন। তিনিচিনি বলেছেন এই মুহূর্তে তিনি উত্তর ও পূর্ব প্রবাহ ও ঋষিগঙ্গা নদীর ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছেন। বন্যার কারণে জলধারা উত্তর থেকে পূর্ব প্রবাহিত হতে শুরু করেছিল। কিন্তু ভূমিধসের কারণে অস্থায়ী বাঁধও তৈরি হয়েছে। লেকটি যে কোনও সময় ভেঙে গিয়ে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।