ডিএমকে সাংসদ সেইসব রাজ্যের কড়া সমালোচনা করেছেন, যেগুলি তাঁর দাবি অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের কেবল হিন্দি পড়তে উৎসাহিত করে এবং ইংরেজি শিক্ষাকে নিরুৎসাহিত করে।
ডিএমকে সাংসদ দয়ানিধি মারানের একটি মন্তব্য ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তিনি উত্তর ভারতের নারী ও তামিলনাড়ুর নারীদের তুলনা করে চেন্নাই সেন্ট্রালের চারবারের সাংসদ মারান বলেছেন, 'তামিলনাড়ুতে নারীদের পড়াশোনা করতে বলা হলেও উত্তর ভারতে তাঁদের রান্নাঘরে কাজ করতে ও সন্তান জন্ম দিতে বলা হয়।' কায়েদ-ই-মিল্লাত সরকারি মহিলা কলেজে ভাষণ দেওয়ার সময় মারান বলেন, 'আমাদের মেয়েদের আত্মবিশ্বাসী এবং গর্বিত হওয়া উচিত, হাতে একটি ল্যাপটপ নিয়ে তারা ইন্টারভিউ দিতে যাক বা স্নাতকোত্তর পড়াশোনা করুক। এই আত্মবিশ্বাস তামিলনাড়ুতেই আছে, যেখানে আমরা মেয়েদের পড়াশোনা করতে বলি। উত্তর ভারতে তারা কী বলে? মেয়েরা? কাজে যেও না, বাড়িতে থাকো, রান্নাঘরে থাকো, সন্তান জন্ম দাও, এটাই তোমাদের কাজ।' মারানের আরও যোগ, 'না, এটা তামিলনাড়ু, একটি দ্রাবিড় রাজ্য, কালাইনার (প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত এম করুণানিধি), আন্না (প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিএন আন্নাদুরাই) এবং (মুখ্যমন্ত্রী) এমকে স্ট্যালিনের ভূমি। এখানে আপনার অগ্রগতিই তামিলনাড়ুর অগ্রগতি। একারণেই বিশ্বব্যাপী কম্পানিগুলো চেন্নাইতে আসে, কারণ এখানকার সবাই শিক্ষিত, শুধু তামিল নয়, ইংরেজিতেও। তারাই নেতৃত্ব দেয়। নারীর অগ্রগতিতে সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমরা সবসময় আপনাদের ভালবাসা ও সমর্থন পাব।' মারানের আরও দাবি, তামিলনাড়ু ভারতের সেরা রাজ্য এবং এমকে স্ট্যালিন দেশের সেরা মুখ্যমন্ত্রী।
ডিএমকে সাংসদ সেইসব রাজ্যের কড়া সমালোচনা করেছেন, যেগুলি তাঁর দাবি অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের কেবল হিন্দি পড়তে উৎসাহিত করে এবং ইংরেজি শিক্ষাকে নিরুৎসাহিত করে। তিনি এই ধরনের নীতিকে কর্মসংস্থানের নিম্ন সম্ভাবনা এবং দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলিতে অভিবাসনের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। মারানের অভিযোগ, কিছু রাজ্যে পড়ুয়াদের উচ্চশিক্ষায় নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে এবং কেবল হিন্দির উপর মনোযোগ দিতে বলা হচ্ছে। তিনি বলেন, 'আপনাদের ইংরেজি পড়তে নিষেধ করা হচ্ছে এবং বলা হচ্ছে যে ইংরেজি পড়লে আপনাদের সর্বনাশ হবে। আপনাদের দাস বানিয়ে রাখা হবে।' মারান উত্তর ভারতের রাজ্যগুলো থেকে দক্ষিণের রাজ্যগুলিকে কাজের সূত্রে আসার জন্য এই শিক্ষাব্যবস্থাকেই দায়ী করেন এবং যুক্তি দেন যে তামিলনাড়ুর শিক্ষার উপর জোর দেওয়াতেই অর্থনৈতিক বৃদ্ধি হচ্ছে। তিনি দাবি করেন যে, শিক্ষাকে কেবল হিন্দিতে সীমাবদ্ধ রাখা অন্যান্য অঞ্চলে বেকারত্ব বাড়ায়, অন্যদিকে তামিলনাড়ুর দ্রাবিড় মডেল মেয়ে ও ছেলে উভয়ের জন্য শিক্ষায় সমান সুযোগ নিশ্চিত করে। তিনি বলেন, এর ফলে রাজ্যে সাক্ষরতার হার বেড়েছে এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণও বৃদ্ধি পেয়েছে। মারান আরও যুক্তি দেন যে, ইংরেজি শিক্ষাকে নিরুৎসাহিত করা শিক্ষার্থীদের সুযোগ এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে সীমিত করে এবং ভাষা-ভিত্তিক বিধিনিষেধ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের পথে বাধা হিসেবে কাজ করে।
এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিজেপি। তামিলনাড়ুর বিজেপি মুখপাত্র নারায়ণ তিরুপতি বলেছেন, 'আবারও দয়ানিধি মারান উত্তর ভারতীয়দের অপমান করেছেন। এই ধরনের কাজ করার অনুমতি তাদের কীভাবে দেওয়া হয়, তা ভেবে আমার খুব খারাপ লাগছে, যদিও ডিএমকে-র কাছ থেকে এটা নিয়মিত ঘটনা। আমার মনে হয় না দয়ানিধি মারানের সাধারণ জ্ঞান আছে।"
বিজেপি নেত্রী অনীলা সিং বলেছেন, 'তিনি ভুলে গেছেন যে তিনি ভারতে বাস করেন এবং ভারত শক্তিকে পুজো করে। যদি তিনি মনে করেন যে শক্তিকে উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব এবং পশ্চিমে ভাগ করা যায়, তবে তিনি আমাদের সংস্কৃতি বোঝেন না। আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করতে চাই যে তিনি যে দলের সঙ্গে জোট করেছেন, সেই দলের নারীদের সম্পর্কে কী বলবেন, যেমন সনিয়া গান্ধী বা প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বা আমাদের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। এই বিভাজনের রাজনীতি কাজ করবে না।'
তবে ডিএমকে মারানের মন্তব্যের পক্ষে সাফাই দিয়েছে। ডিএমকে সূত্র জানিয়েছে, মারান নারীদের সরকারি প্রকল্পগুলো ব্যবহার করে শিক্ষিত, ক্ষমতায়িত এবং কর্মসংস্থানযোগ্য হতে উৎসাহিত করতে চেয়েছিলেন। এটা গর্বের বিষয় যে দেশের শিল্প খাতে নারী কর্মশক্তির ৪০ শতাংশেরও বেশি শুধু তামিলনাড়ুতেই রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই বিষয়টি দেখতে হবে।


