গত সপ্তাহেই জম্মু ও কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলায় পঞ্চায়েত প্রধান অজয় পণ্ডিতাকে হত্যা করেছিল সন্ত্রাসবাদীরা। তারপর থেকে উপত্যকায় থাকতে ভয় পাচ্ছিলেন পঞ্চায়েত সদস্য ও প্রধানরা। তাদের সেই ভয় যে অমূলক নয়, তা সাম্প্রতিক এক ভাইরাল হওয়া ভিডিও-তে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। সেই ভিডিও-তে একেবারে প্রকাশ্যে কাশ্মীরের আরও এক মহিলা পঞ্চায়েত প্রধানকে একেবারে প্রকাশ্যে হুমকি দিতে দেখা গিয়েছে সন্ত্রাসবাদীদের। আর সেই হুমকির মুখে প্রাণভিক্ষা করেছেন ওই মহিলা।

ভিডিওটি উত্তর কাশ্মীরের সোপোর শহরের একটি খোলা মাঠে তোলা বলে জানা গিয়েছে। আর যে মহিলাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে, তিনি সোপোর-এরই পঞ্চায়েত প্রধান। পঞ্চাশ বছর বয়সী ওই মহিলার নাম গুলশন। ,

ভিডিওতে, এক পুরুষ কন্ঠ শোনা গিয়েছে (তাকে দেখা যায়নি)। সেই পুরুষ কন্ঠ গুলশান-কে জিজ্ঞাসাবাদ করে। আর গুলশানকে দেখা যায় হাত জোড় করে ক্ষমা চাইতে। তিনি আরও বলেন, পঞ্চায়েত প্রধান পদে তিনি থাকবেন না। এই পদ থেকে  তিনি পদত্যাগ করবেন। এরপর ওই পুরুষ কন্ঠ গুলশানের ফোনে থাকা একটি নম্বর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। মহিলা পঞ্চায়েত প্রধান জানান, ওই নম্বরটি পুলিশ সুপারের নম্বর।

এরপর ওই পুরুষ কন্ঠ বলে গুলশান তার মায়ের বয়সী, তাই তাঁকে তখনকার মতো ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে এটিই শেষ সতর্কতা। এরপর আর সতর্ক করা হবে না, সোজা অ্যাকশন হবে।

এক সপ্তাহের মধ্য়েই প্রথমে অজয় পণ্ডিতার হত্যা ও তারপর এই হুমকি কাশ্মীরে তৃণমূল স্তরের রাজনৈতিক কর্মীদের অসহায়তাকেই তুলে ধরছে বলে জানিয়েছেন উপত্যকার বেশ কয়েকজন পঞ্চায়েত প্রধান ও সদস্য। অনেকেই ইতিমধ্যেই প্রাণভয়ে কাশ্মীর থেকে নেমে এসেছেন জম্মুতে। তাঁদের অভিযোগ প্রশাসন তাঁদের যথেষ্ট নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। যতদিন না তাঁদের সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত হচ্ছে, ততদিন তাঁরা আর উপত্যকায় ফিরবেন না। সুরক্ষার পাশাপাশি তারা জীবনবীমার দাবিও করেছেন।