ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির আইনি জটিলতা আরও বাড়ল। আট বছরের পুরনো একটি মামলায় ফের সমন জারির নির্দেশ দিল দিল্লির সাকেত আদালত। ধ্রুব রাঠির গুরুগ্রামের ঠিকানায় নতুন করে সমন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৭ অক্টোবর এই মামলার পরবর্তী শুনানি। এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন বিকাশ সাঙ্কৃত্যায়ন ওরফে বিকাশ পাণ্ডে।

ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির আইনি জটিলতা আরও বাড়ল। আট বছরের পুরনো একটি মামলায় ফের সমন জারির নির্দেশ দিল দিল্লির সাকেত আদালত। ধ্রুব রাঠির গুরুগ্রামের ঠিকানায় নতুন করে সমন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৭ অক্টোবর এই মামলার পরবর্তী শুনানি। এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন বিকাশ সাঙ্কৃত্যায়ন ওরফে বিকাশ পাণ্ডে। তিনি ‘আই সাপোর্ট নরেন্দ্র মোদী’ নামে একটি সোশ্যাল মিডিয়া পেজের প্রতিষ্ঠাতা বলে জানা গিয়েছে। ধ্রুব রাঠির একটি পুরনো ভিডিওকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মানহানির অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারীর উপস্থিতিতে সমন পাঠানোর অনুমতি

আদালত অভিযোগকারীকে সমন পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে থাকা কর্মীর সঙ্গে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। ধ্রুব রাঠির গুরুগ্রামের বাড়িতে যাতে যথাযথভাবে সমন পৌঁছে দেওয়া যায়, তা নিশ্চিত করতেই এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ধ্রুব রাঠির কাছে সমন পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। কিন্তু তিনি বিদেশে থাকায় প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে সমস্যা হচ্ছিল। বর্তমানে তিনি ভারতে এবং গুরুগ্রামে রয়েছেন বলে অভিযোগকারীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

কোন ভিডিওকে কেন্দ্র করে মামলা?

ধ্রুব রাঠির ‘BJP IT Cell Part-2’ শীর্ষক একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে এই মানহানির মামলা। অভিযোগকারীর দাবি, ওই ভিডিওতে তাঁকে বিজেপির আইটি সেলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। পাশাপাশি, এক ব্যক্তিকে ভুয়ো খবর সরানোর জন্য ৫০ লক্ষ টাকা দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছিল বলে দাবি তাঁর। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই ধ্রুব রাঠির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়।

সাকেত আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফার্স্ট ক্লাস (দক্ষিণ-পূর্ব) রাহুল জৈন একটি নতুন সমন জারি করেছেন। অভিযোগকারী মামলাটির দ্রুত শুনানির জন্য আবেদন করেছিলেন, যা মূলত ২০ নভেম্বরের জন্য তালিকাভুক্ত ছিল। অভিযোগকারী এই যুক্তিতে দ্রুত শুনানির জন্য আবেদন করেছিলেন যে, রাঠি, যিনি সাধারণত বিদেশে থাকেন, তিনি বর্তমানে সিজেপি প্রতিবাদের সূত্রে ভারতে রয়েছেন। তিনি একটি নতুন সমনের অনুরোধ করেন যাতে রাঠিকে সমন জারির জন্য অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়া যায়। তিনি যুক্তি দেন যে, রাঠির বিদেশে থাকার কারণে বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে সমন জারিতে বিলম্ব হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন যে, হরিয়ানায় রাঠির বাসস্থান সম্পর্কে তাঁর কাছে তথ্য রয়েছে।

আদালত বলেছে, "বিদ্যমান নথি থেকে এটা স্পষ্ট যে, অভিযোগকারী বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে অভিযুক্তের উপর সমন জারির চেষ্টা করে আসছেন, কারণ অভিযুক্তকে প্রাথমিকভাবে ২৩.০৭.২০১৯ তারিখের আদেশ অনুসারে তলব করা হয়েছিল। অভিযোগকারীর আইনজীবীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্তের উপর একটি নতুন সমন জারি করা হোক।"

১৭ অক্টোবরের শুনানিতে নজর

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মামলায় নতুন করে সমন জারির নির্দেশের পর আগামী ১৭ অক্টোবরের শুনানির দিকে নজর রয়েছে। আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপে মামলাটি কোন দিকে এগোয়, এখন সেটাই দেখার।