জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরের দিনই ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে তলব করল দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ। যন্তর মন্তরে আর বিক্ষোভ দেখাবেন না এবং শান্তি বজায় রাখবেন, এই মুচলেকা দেওয়ার পরেই আদালত তাঁদের জামিন দিয়েছিল।
দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ বৃহস্পতিবার ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে তাদের রাজৌরি গার্ডেন অফিসে ডেকে পাঠিয়েছে।
মুচলেকা দিয়ে জামিন
আদালত এই দুই নেতার ব্যক্তিগত ও শিউরিটি বন্ড গ্রহণ করে তাঁদের জেল থেকে ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিল। শান্তি বজায় রাখা এবং আইন মেনে চলার লিখিত মুচলেকা দেওয়ার পরেই স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (এসইএম) আদালত এই নির্দেশ দেয়। আর তার ঠিক পরের দিনই এল ক্রাইম ব্রাঞ্চের তলব।
এসইএম রিতু রাজ নির্দেশ দিয়েছেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুই নেতাকে ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত ও শিউরিটি বন্ড জমা রাখতে হবে। শুনানির প্রত্যেকটি তারিখে তাঁদের আদালতে হাজিরা দিতে হবে এবং বন্ডের সব শর্ত মেনে চলতে হবে।
লিখিত মুচলেকায় সৌরভ ও আশুতোষ জানিয়েছেন, তাঁরা শান্তিভঙ্গ করবেন না। যন্তর মন্তরকে যতক্ষণ না আইন অনুযায়ী আবার বিক্ষোভ দেখানোর জায়গা হিসেবে ঘোষণা করা হচ্ছে, ততক্ষণ তাঁরা সেখানে কোনও জমায়েত করবেন না। ভবিষ্যতে যে কোনও প্রতিবাদ সংবিধান মেনেই হবে বলে তাঁরা কথা দিয়েছেন। তাঁদের জামিন দেওয়ার সময় এসইএম আদালত জানায়, "আদালতে লিখিত মুচলেকা দেওয়ার পর এই মুহূর্তে তাঁদের আর জেলে আটকে রাখার কোনও প্রয়োজন নেই।"
পুলিশের দাবি ও পরবর্তী শুনানি
আদালত তদন্তকারী অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছে, আগামী শুনানিতে জামিনদারদের ভেরিফিকেশন রিপোর্ট জমা দিতে হবে। আগামী ২৩ অক্টোবর বিকেল ৩টেয় এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। ওই দিন দুই নেতা এবং তাঁদের জামিনদারদের আদালতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। এর আগে দিল্লি পুলিশ এই দুই নেতার জেল হেফাজতের মেয়াদ আরও তিন দিন বাড়ানোর আবেদন করেছিল। পুলিশের যুক্তি ছিল, এঁরা বাইরে বেরোলে শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা নষ্ট হতে পারে। আদালতে দেওয়া বয়ান এবং পরে সংবাদমাধ্যমে বলা কথার মধ্যে ফারাক রয়েছে বলেও পুলিশ দাবি করেছিল।
শুনানি চলাকালীন দুই নেতার আইনজীবী পুলিশের তোলা এই অভিযোগের জন্য আদালতের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে নেন এবং ভবিষ্যতে এমনটা আর হবে না বলে আশ্বাস দেন।
গত ১৩ অক্টোবর যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ দেখানোর অভিযোগে সৌরভ ও আশুতোষকে আটক করা হয়েছিল। ওই জায়গাটিতে এখন আর বিক্ষোভ দেখানোর অনুমতি নেই। পুলিশের অভিযোগ ছিল, তাঁরা ব্যক্তিগত এলাকা দিয়ে সেখানে ঢুকেছিলেন এবং শান্তি বজায় রাখার শর্ত ভেঙেছিলেন। এসইএম আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই ঘটনার তদন্ত আইন অনুযায়ী চলবে।









