লকডাউনের ঠিক আগেই কাজ ছেড়ে দিয়েছিলেন। মাইনে বাকি পড়েছিল প্রায় দেড় মাসের মতো। আনলক হওয়ার পর যেই সেই বকেয়া মাইনে চাইতে গেলেন, ওমনি তার উপর মালিক লেলিয়ে দিল কুকুর। আচড়ে, কামড়ে তার মুখ-ঘাড় ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছিল সেই শ্বাপদ। দক্ষিণ দিল্লির মালভিয়া নগরের এক স্পা মালিকের বিরুদ্ধে এমনই গুরুতর অভিযোগ করেছেন ওই স্পা-এর এক প্রাক্তন মহিলা কর্মচারী। তার অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার ওই স্পা মালিককে গ্রেফতার করেছে দিল্লি।

ঘটনাটি অবশ্য ঘটেছে প্রায় একমাস আগে, ১১ জুন। নির্যাতিতা মহিলার নাম স্বপ্না বছর চল্লিশের স্বপ্না বেশ কয়েক বছর দক্ষিণ দিল্লির ওই স্পা-তে কাজ করতেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে স্পা-এর মালিক রজনী, নিয়মিত মাইনে দিতে পারছিল না। প্রায়ই কয়েক মাসের মাইনে বাকি পড়ছিল। এরপরই গত ২২ মার্চ ওই কাজ ছেড়ে দেন স্বপ্না। সেই সময়ও দেড় মাসের মাইনে বাকি পড়েছিল। ২৪ জুন লকডাউন জারি হয়।

গত ১১ জুন তিনি রজনীকে ফোন করে তার তার বকেয়া টাকার দাবি করে। রজনী স্বপ্নাকে তার বাড়িতে ডেকেছিল। সেই মতো ওই স্পা মালিকের খিরকি এক্সটেনশনের বাড়িতে গিয়েছিলেন স্বপ্না। অভিযোগ সেখানে যেতেই রজনী বলেছিল, যদি সে তার স্পা-তে ফের কাজ করা শুরু করে, তবেই তার বকেয়া  মেটানো হবে। সেই প্রস্তাবে রাজি না হতেই রজনী তার কুকুরটিকে বাধনমুক্ত করে এবং স্বপ্নার দিকে লেলিয়ে দেয় বলে এফআইআর-এ বলা হয়েছে।

স্বপ্নার মুখে ও ঘাড়ে আচড়ে-কামড়ে দেয় কুকুরটি। যন্ত্রণায় চিৎকার কর উঠেছিলেন তিনি। কিন্তু, রজনী তাকে চিৎকার না করার জন্য হুমকি দেন। কারণ তার কান্না শুনে লোক জড়ো হয়ে যেতে পারে। সেই ক্ষেত্রে আরও খারাপ পরিণতি করা হবে। এরপর গুরুতর আহত অবস্থায় স্বপ্নাকে দ্রুত মদনমোহন মালভিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁকে পাঠানো হয় সফদরজং হাসপাতালে। মুখ এবং ঘাড় মিলিয়ে তাঁর ১৫টি সেলাই লেগেছে।

কিন্তু, কেন এমনটা করলেন রজনী? স্বপ্না জানিয়েছেন এই সম্পর্কে তাঁর কোনও ধারণা নেই। এর আগে কখনও ওই স্পা মালিক তাঁর প্রতি কোনও খারাপ আচরণ করেননি। স্বপ্নার অভিযোগের ভিত্তিতে রজনীর বিরুদ্ধে পুলিশ পশুর প্রতি অবহেলা করা এবং ভারতীয় দণ্ডবিধি অনুযায়ী হত্যার চেষ্টা করার অভিযোগ দায়ের করেছে। দিল্লির পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) অতুল কুমার ঠাকুর জানিয়েছেন, অভিযুক্তকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ।