DEPA Framework: কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক ভারতে এআই ট্রেনিং আরও সুরক্ষিত করতে 'ডেপা' (DEPA) ফ্রেমওয়ার্ক আনল। এর ফলে ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা ও তথ্য সুরক্ষিত রেখেই এআই-এর কাজ করা যাবে।

DEPA Framework: এআই ট্রেনিংয়ের জন্য নতুন ডেপা ফ্রেমওয়ার্ক আনল কেন্দ্র। ভারতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই-এর ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হতে চলেছে। কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY) উন্নত মানের ডেটাসেট সহজে পাওয়ার জন্য একটি নতুন ফ্রেমওয়ার্ক চালু করেছে। এর ফলে ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা, মেধা সম্পদ এবং প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেই নিরাপদে ডেটা শেয়ার করা যাবে। মন্ত্রক শনিবার, বেঙ্গালুরুতে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এআই ট্রেনিংয়ের জন্য 'ডেটা এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড প্রোটেকশন আর্কিটেকচার' (DEPA) বা ডেপা-র একটি হ্যান্ডবুক প্রকাশ করেছে। আইস্পিরিট (iSPIRT) ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এই হ্যান্ডবুকটি প্রকাশ করেন কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের সচিব এস. কৃষ্ণান।

ডেপা ফ্রেমওয়ার্ক আসলে কী?

এই ফ্রেমওয়ার্ক মূলত, ডেটা শেয়ার করার ক্ষেত্রে গোপনীয়তা বা মেধা সম্পদের মতো বাধাগুলো দূর করবে। এটি এমন একটি প্রযুক্তিগত ও আইনি কাঠামো তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ রেখেই এআই ট্রেনিংয়ের জন্য ডেটা শেয়ার করতে পারবে। এই ফ্রেমওয়ার্কে চুক্তির অনুমতি, নিয়ন্ত্রিত কম্পিউটিং পরিবেশ এবং গোপনীয়তা রক্ষার মতো বিষয়গুলো একসঙ্গে কাজ করবে। পাশাপাশি এতে ডেটা প্রোভেন্যান্স বা তথ্যের উৎস জানার ব্যবস্থাও থাকছে। এর ফলে এআই ট্রেনিংয়ের সময় ডেটা কোথা থেকে আসছে এবং কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে, তার ওপর নজর রাখা যাবে। এতে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় থাকবে।

এআই ডেটা সুরক্ষা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মত

এস. কৃষ্ণান বলেন, “ভারতের এআই নিয়ে যে লক্ষ্য রয়েছে, তা পূরণ করতে গেলে ডেটাকে দায়িত্বের সঙ্গে এবং নিরাপদে ব্যবহার করতে হবে। ডেপা ট্রেনিং ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে বড় পরিসরে নিরাপদে ডেটা শেয়ার করা সম্ভব হবে। এর ফলে গোপনীয়তা ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেই এআই ট্রেনিংয়ের জন্য প্রচুর ডেটা পাওয়া যাবে।” ভারত সরকারের প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা অজয় কুমার সুদ জানান, এই ফ্রেমওয়ার্কের ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের মূল তথ্য অন্য কোথাও পাঠাতে হবে না। এআই মডেলগুলো নিজেরাই সেই ডেটা ব্যবহার করতে পারবে। তিনি বলেন, "ডেপা-র অধীনে ডেটা মডেলের কাছে যায় না, বরং মডেলই ডেটার কাছে পৌঁছে যায়।" তিনি আরও জানান, এই পদ্ধতির ফলে একাধিক পক্ষ এবং দেশের সীমানা পেরিয়েও নিরাপদে ডেটা শেয়ার করা যাবে, যা বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে আরও দ্রুত করবে। বিশ্বজুড়ে একটি দায়িত্বশীল এআই ইকোসিস্টেম তৈরিতে এই ফ্রেমওয়ার্ককে ভারতের বড় অবদান বলে মনে করছেন তিনি।

আইস্পিরিট ফাউন্ডেশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা শরদ শর্মা এই উদ্যোগকে ভারতের ডেটা অর্থনীতির জন্য একটি বড় মাইলফলক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি এর গুরুত্বকে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউপিআই (UPI) চালুর সঙ্গে তুলনা করেছেন। ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং অ্যাক্সিলর ভেঞ্চারসের চেয়ারম্যান ক্রিস গোপালকৃষ্ণন বলেন, এই ফ্রেমওয়ার্কের সাহায্যে গবেষকরা বিভিন্ন ধরনের ডেটাসেট ব্যবহার করে আরও উন্নত এআই মডেল তৈরি করতে পারবেন। একইসঙ্গে যারা ডেটা দিচ্ছেন, তাদের অধিকারও সুরক্ষিত থাকবে।

এদিনের এই বৈঠকে সরকার, শিল্প, প্রযুক্তি, শিক্ষা, গবেষণা এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এআই-এর উন্নতি এবং জনকল্যাণে কীভাবে নিরাপদে ডেটা শেয়ার করা যায়, তা নিয়েই মূলত আলোচনা হয়।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।