বিহার নির্বাচনে বামেদের জয়জয়কার। মহাজোটের শরিক হিসাবে তারা ২৯টি আসনে লড়াই করে ১৬টিতে জয় পেয়েছে। অর্থাৎ স্ট্রাইক রেট ৫০ শতাংশেরও বেশি। রাজ্যে একমাত্র বিজেপি-রই স্ট্রাইক রেট বামেদের থেকে বেশি। এই ফলে সিপিএম নেতা সীতারাম ইয়েচুরি বলেছিলেন 'বামেরা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাননি এটাই তার প্রমাণ'। আরও বেশি আসন পেলে, আরও জিততে পরতেন বলেও দাবি করেছিলেন। তবে এত ভালো ফলের পরও বুধবার মহাজোটের অন্য দুই শরিকদের মতোই বামেরাও ভোট গণনার চূড়ান্ত পর্যায়ে 'অনিয়ম'-এর অভিযোগ করল।

এদিন এক যৌথ বিবৃতিতে তিন বাম দল - সিপিআই (এমএল), সিপিআই এবং  সিপিএম জানিয়েছে তারা শিঘ্রই নির্বাচন কমিশনের কাছে এই বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করবে। তিন বাম দল জানিয়েছে গণনা-র শেষ পর্যায়ে কিছু স্পষ্ট অনিয়ম ঘটেছে, যা নির্বাচন কমিশনের গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা দরকার। কারণ ক্ষমতাসীন এনডিএ জোট ও বিরোধী দলগুলির মহাজোটের মধ্যে ভোট ভাগের পার্থক্য 'খুব কম'।

বামদলগুলির জেতা ১৬টি আসনের মধ্যে সিপিআই (এমএল) পেয়েছে ১২ টি আসন। এছাড়া সিপিআই ও সিপিএম দুটি করে আসন জিতেছে। শুধু তাই নয়, ভোট বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন প্রথম দফার ভোটে মহাজোটের যে দাপট দেকা গিয়েছে, তা অনেকটাই বাম দলগুলির জন্য। তারা নিজেরা যেমন আসন জিতেছে তেমনই মহাজোটের অন্যান্য শরিকদেরও বেশ কয়েকটি আসনে জিততে সহায়তা করেছে। এতটাই চমকে দেওয়া ফল তাদের, যে অনেকে বলছেন ২০২১-এর বিধানসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গেও বামেরা এত ভোট নাও পেতে পারে।  

বামেদের মতে এই ভোটে শেষ পর্যন্ত আসন সংখ্যায় এনডিএ জয়ী হলেও, নৈতিক জয় মহাজোটেরই হয়েছে। তাদের যুক্তি রাজ্যে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট ১২ শতাংশ ভোট হারিয়েছে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের জনতা দল (ইউনাইটেড) গত নির্বাচনে ৭১ টি আসন জিতেছিল, এবার জিতেছে মাত্র ৪৩ টি আসন। দুই পক্ষে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে বোঝা যাচ্ছে এনডিএ-র মুখ্যমন্ত্রীকে ভোটারদের একটা বড় অংশ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

বামেদের মতে বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দারুণভাবে ভোটারদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বড় অংশের মানুষ, লকডাউনের ফলে অর্থনৈতিক সমস্যা, কোভিড মিত্ররা মহামারি সামলাতে বিজেপি ও তার মিত্র দলগুলির ব্যর্থতা ও বেকারত্বের মতো মহাজোটের তোলা সামাজিক সমস্যাগুলি বেশি গ্রহণীয় মনে হয়েছে। আর তাতেই বামপন্থীদের এত বেশি করে সমর্থন জানিয়েছেন বিহারের আমজনতা।