তল্লাশি চলার ভয়ে ইমতিয়াজ কখনই হাসপাতালে ভ্রূণ পরীক্ষা করাতেন না। পরীক্ষা করার জন্য তিনি তার সঙ্গীদের বাড়িতে, হোটেলে এমনকি চলন্ত যানবাহনেও লিঙ্গ পরীক্ষা করতেন।

গর্ভস্থ ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। বিদেশে এর চল থাকলেও, ভারতে কন্যাভ্রূণ হত্যার সংখ্যা দিনে দিনে বাড়তে থাকায়, তা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে, যোধপুরে বেআইনি ভ্রূণ পরীক্ষা করতে গিয়ে ধরা পড়া ডাক্তারের নতুন গল্প সামনে আসছে। ডক্টর ইমতিয়াজের গল্প হিন্দি চলচ্চিত্রের খলনায়কের চেয়ে কম নয়। কথায় আছে বাবার চিহ্ন যেমন সন্তানের মধ্যে আসে, তেমনি ইমতিয়াজও বাবার কাছ থেকে পেয়েছেন অপরাধ করার সবরকম গুণ। আসলে, তার বাবা মোহাম্মদ নিয়াজও একজন ডাক্তার এবং তিনিও লিঙ্গ পরীক্ষা করতে গিয়ে তিনবার ধরা পড়েছেন। তার এই কার্যকলাপের কারণে, তিনি হয়ত নিজেও জানেন না কত গর্ভ নষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু এই সত্য ঘটনা এখানেই শেষ হবে বলে মনে হয় না।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

১৫ আগস্ট ধরা পড়েন মোহাম্মদ নিয়াজ

পিসিপিএনডিটি দলের সদস্যরা জানিয়েছেন, মোহাম্মদ ইমতিয়াজের বাবা মহম্মদ নিয়াজও তিনবার ধরা পড়েছেন। তিনি ২০১২, ২০১৪ এবং ২০১৬ সালের ১৫ আগস্ট গর্ভপাতের জন্য টাকা নেওয়ার সময় ধরা পড়েছিলেন। তিনবার গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তখন পর্যন্ত তিনি এই ঘৃণ্য কাজ থেকে লাখ লাখ টাকা আয় করেছেন।

পিসিপিএনডিটির টিম জানায়, ২০১৬ সালের ১৫ আগস্ট মোহাম্মদ নিয়াজ তৃতীয়বার ধরা পড়লে কয়েকদিন জেলে থাকার পর তিনি আবার বেরিয়ে আসেন এবং এই কাজ থেকে সরে আসেন। এর পর বড় কোনো অভিযোগ আসেনি তার বিরুদ্ধে। কিন্তু এই প্রক্রিয়া এখানেই থামেনি। এর মধ্যেই অন্য কিছু ঘটতে শুরু করে। বাবা যেখানে অপরাধের শেষ করেছিলেন, সেখান থেকেই শুরু করে ছেলে ইমতিয়াজ। 

১৫ আগস্ট বাবার তৃতীয় গ্রেপ্তারির মাত্র ৪৫ দিন পর, সাতই অক্টোবর, ২০১৬ তারিখে, ছেলে ইমতিয়াজ প্রথমবারের মতো ধরা পড়েন। সহকর্মীদের বাড়িতে বা হোটেলে ভ্রুণের লিঙ্গ পরীক্ষা করতেন তিনি। ইমতিয়াজকে যখন গ্রেপ্তার করা হয়, তখন তাকে তার সঙ্গীর বাড়িতে ভ্রূণ পরীক্ষা করতে দেখা যায়। এ সময় তিনি বালেসার সরকারি হাসপাতালের দায়িত্বে ছিলেন।

পিসিপিএনডিটির টিম জানিয়েছে, তল্লাশি চলার ভয়ে ইমতিয়াজ কখনই হাসপাতালে ভ্রূণ পরীক্ষা করাতেন না। পরীক্ষা করার জন্য তিনি তার সঙ্গীদের বাড়িতে, হোটেলে এমনকি চলন্ত যানবাহনেও লিঙ্গ পরীক্ষা করতেন। যদিও সে এসব জায়গা থেকেও বহুবার ধরা পড়েছিল।