১৪ টাকার বিনিময়ে গ্রাহকদের ক্যারিব্যাগ দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা জরিমানা দিতে হচ্ছে জনপ্রিয় পিৎজা সংস্থা ডোমিনোজ-কে। এর আগেও একই ভুলের জন্য ডোমিনোজ-কে ১০ লক্ষ টাকা খরচা করতে হয়েছে। কিন্তু অতীতের ভুলগুলি থেকে তারা শিক্ষা নেয়নি।

চন্ডীগড়ে ডমিনোজ পিৎজার মালিক সংস্থা জুবিলিয়েন্ট ফুড ওয়ার্কস লিমিটেড-এর বিরুদ্ধে কনজিউমার ডিসপিউটস রিড্রেসাল কমিশন-এ মামলা করেছিলেন দুই উপভোক্তা। তাদের পাল্টা মামলা করেছিল জুবিলিয়েন্ট ফুড ওয়ার্কস লিমিটেড। কিন্তু এদিন কমিশন তাদের সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। সংস্থাকে দুই গ্রাহককেই ক্যারিব্যাগের জন্য নেওয়া ১৪ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এখানেই শেষ নয়, একই সঙ্গে ডোমিনোজকে গ্রাহকদের হয়রানি, মানসিক হয়রানি এবং মামলা মোকদ্দমার ব্যয়ের ক্ষতিপূরণ হিসাবে ১৫০০ টাকা করে দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া সংস্থা জরিমানা হিসাবে ৯ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা দেবে যা জমা পড়বে পিজিআই চণ্ডিগড় পরিচালিত দরিদ্র রোগী কল্যাণ তহবিল (পিপিডাব্লুএফ)-এ।

ডোমিনোজ সংস্থার পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে চলতি বছরেরই ফেব্রুয়ারি মাসে একইরকম একটি মামলায় বড় ক্ষতি হয়েছিল সংস্থার। জুলাই মাসে কনজিউমার ডিসপিউটস রিড্রেসাল কমিশন জুবিলিয়েন্ট ফুড ওয়ার্কস লিমিটেডকে একই কারণে পাঁচ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছিল। সেই সময় কনজিউমার ফোরামের বিরুদ্ধে আবেদন জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি।

কিন্তু, তারপরও সংস্থাটি ক্যারি ব্যাগের জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া বন্ধ করেনি। ১৩ নভেম্বর পঙ্কজ চাঁদগোঠিয়া নামে এক আইনজীবীকে ফের ক্যারিব্যাগের জন্য ১৪ টাকা চার্জ করা হয়। ওই আইনজীবী জেলা ককনজিউমার ফোরামে অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি কনজিউমার কমিশনে পৌঁছালে ডমিনোজ-এর ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা হল।

উপভোক্তা বিষয়ক আইন বলছে, গ্রাহকদের ক্যারিব্যাগের বিনিময়ে অর্থ দেওয়ার  কথা বলা যেতে পারে না। পঙ্কজ চাঁদগোঠিয়া ফোরামে আবেদনের যে আইনের ধারা তুলে ধরেন তাতে বলা হয়েছে, পণ্যকে সরবরাহযোগ্য অবস্থায় রাখার জন্য প্যাকেজিং ইত্যাদি সংক্রান্ত সমস্ত ব্যয় বিক্রয়কারীকেই বহন করতে হবে।