করোনাভাইরাস আতঙ্ক গ্রাস করছে ভারত-কে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গুজবের সংখ্যা। 'আমিষ খেলে কোভিড-১৯'এ আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে' থেকে শুরু করে 'গোমূত্র খেলে করোনাভাইরাস সেড়ে যাবে'র মতো গুজবে ভরেছে দেশ। এরমধ্যে মাথাচাড়া দিচ্ছে বর্ণবিদ্বেষও। ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলি থেকে পড়াশোনা বা কাজের সূত্রে অন্য রাজ্যে আসা মানুষরা করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে নিয়মিত শিকার হচ্ছেন বর্ণবিদ্বেষের। রাস্তায় তাদের উদ্দেশ্য করে কটু মন্তব্য করা থেকে শুরু করে অনেক ক্ষেত্রে করোনাভাইরাস সংক্রমণের জন্য সরাসরি দায়ী করা হচ্ছে তাদের।

সম্প্রতি পঞ্জাবের চুন্নি কালান নামে এক ছোট্ট গ্রামে বসবাস করা কয়েকজন উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের ছাত্রছাত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। সেখানে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়াতে কীভাবে তাদের নিয়মিত বর্ণ বিদ্বেষের শিকার হতে হচ্ছে তা ব্যাখ্যা করেছেন তাঁরা। ভিডিওতে তাঁরা অভিযোগ করেছেন এতদিন তাঁরা ভারতীয় হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের কখনও নেপালি, কখনও চিনা কখনও চিঙ্কি-র মতো অপমানবোধক সম্বোধন করা হতো। কিন্তু, করোনাভাইরাস সংক্রমণের বাজারে তাদের নতুন নামে ডাকা হচ্ছে, 'করোনাভাইরাস'।

ফেসবুকের ওই ভিডিও-তে তাঁরা আবেদন করেছেন, 'আমাদের করোনা বোলো না'। কারণ, এই অপমানজনক সম্বোধনে তাঁদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর, নিরুৎসাহজনক এবং এতে তাঁদের পড়াশোনারও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। তবে বর্ণবিদ্বেষ শুধু সম্বোধনেই শেষ হয়ে যায়নি, ভিডিও-তে ওই শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেছেন, তাঁদের কয়েকজন বন্ধুবান্ধব-কে বাড়ি ভাড়া দিতেও চাইছেন না কেউ। কারণ মানুষ মনে করছেন তাঁরা বোধহয় চিন থেকে এসেছেন।

এই অবস্থায়, ওই ভিডিওটি যাঁরা দেখবেন, তাঁদের ভারতের মানচিত্র সম্পর্কে শিক্ষিত হতে এবং উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলি সম্পর্কে আরও তথ্য জানার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। করোনাভাইরাস চিন থেকে ছড়িয়েছে। কিন্তু, তাঁরা ভারতীয়। এই ভিডিওটি পোস্ট করার পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। বহু মানুষ ভিডিওটি দেখেছেন, শেয়ার করেছেন। কমেন্টস বিভাগে এই কুৎসিত বিদ্বেষ-এর বিরুদ্ধে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।