গত ১৫ জুন পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চিনের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েই চলেছে। এই পরিস্থিতিতে একাধিকবার কূটনৈতিক ও সামরিক বৈঠকে বসেছে ভারত ও চিন। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা থেকে সেনা সরাতেও সম্মত হয়েছে দুই দেশ। কিন্তু চিন যে নিজেদের আগ্রাসী মনোভাব বদল করেনি তা বোঝা যাচ্ছে সাম্প্রতিক একটি ঘটনায়।

১৫ জুন  পেট্রোলিং পয়েন্ট (পিপি)-১৪ কে ঘিরেই সংঘাতে জড়িয়ে ছিল দুই তরফের সেনা। যাতে শহিদ হন ভারতের এক সামরিক আধিকারিক সহ ২০ জন জওয়ান। নিজেদের সেনার প্রাণহানির কথা বহু পড়ে স্বীকার করে বেজিংও। এবার জানা যাচ্ছে, এই সংঘর্ষস্থলের পাশেই ফের ভারতীয় এলাকা দখল করেছে চিনা বাহিনী। সেনা বাহিনী সূত্রে জানা যাচ্ছে, এখনও পর্যন্ত নতুন পরিকাঠামো তৈরি না করলেও, পয়েন্ট ১৪-সহ গোটা এলাকায় চিনা সেনার উপস্থিতি দেখা গিয়েছে। যে  কারণে পেট্রোলিং পয়েন্ট ১০, ১১, ১১এ, ১২ এবং ১৩-এ পৌঁছতে পারছেন না ভারতীয় জওয়ানরা।

আরও পড়ুন: গালওয়ান নিয়ে ফের বাড়ছে ভারত-চিন উত্তেজনা, যুদ্ধের ইজ্ঞিত দিয়ে এবার এশিয়ামুখী মার্কিন সেনা

গত ১৫ জুন গালওয়ান উপত্যকায় পিপি-১৪-এ চিনা সেনা পরিকাঠামো তৈরির চেষ্টা করায় দুপক্ষে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে। এই ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গেলেও  তাতে বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ নেই লাল ফৌজের। সীমান্ত সংঘর্ষের  ১০ দিনের মধ্যে ফের পেট্রোলিং পয়েন্ট ১৪-র কাছে ঘাঁটি গেড়েছে চিনা সেনা। ভারতী সেনা বাহিনী সূত্রে জানা যাচ্ছে,  এই মুহূর্তে সেখানে বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে ফলেছে চিনারা। যার মধ্যে পড়েছে বটল-নেক পয়েন্ট বা ওয়াই জংশন পেট্রোলিং পয়েন্ট। এই এলাকা ভারতের মধ্যে হলেও যা বর্তমানে চিনের দখলে। ওই ওয়াই জংশন পয়েন্ট থেকেই পিপি ১০, ১১, ১১এ, ১২ ও ১৩ তে যাওয়ার রাস্তা। কিন্তু চিনা সেনারা সেখানে থাকায় আপাতত ওই এলাকায় পৌঁছতে পারছে না ভারতীয় সেনা। এর ফলে নিজেদের কয়েকশো বর্গ কিলোমিটার এলাকায় নজরদারি বন্ধ রাখতে হয়েছে ভারতকে। 

আরও পড়ুন: এবার আকসাই চিনের জমি ফেরাতে মরিয়া ভারত, লাদাখে মোতায়েন ৪৫ হাজার জওয়ান

ওয়াই জংশন পয়েন্টটি থেকে লাদাখের ব্রুটসে ভারতীয় সেনার ছাউনি ৭ কিলোমিটার দূরে এবং ওই শহরের উপর দিয়ে চলে গিয়েছে দারবুক-শাইয়োক-দৌলত বেগ ওল্ডি সড়ক। আর এই সড়কই চিনের মাথাব্যথার কারণ। সেই কারণে বছর দশেক আগেও চিনারা এক বার ব্রুটস পর্যন্ত ঢুকে এসেছিল। এদিকে চিন ফের জমি দখলের চেষ্টা করায় হুঙ্কার ছেড়েছে ভীরতও। পররাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জানান হয়েছে, লাদাখের  স্থিতাবস্থা বদলের চেষ্টার ফল ভুগতে হবে চিনকে।

লাদাখের পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে ২ দিনের সফরে সেখানে গিয়েছিলেন সেনা প্রধান এম এম নরবণে। শুক্রবার সেখান থেকে ফিরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংকে সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে রিপোর্ট দেন তিনি। এদিকে চিনে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বিক্রম মিস্ত্রি ফের হুঁশিয়ারির সুরে বলেন,  পূর্ব লাদাখে সমস্যা মেটানোর পথ একটাই। বেজিংকে বুঝতে হবে স্থিতাবস্থা বদলের চেষ্টা হলে তার ফলও ভুগতে হবে। ভারতীয় বাহিনীর স্বাভাবিক টহলদারির পথে বাধা দেওয়া বন্ধ হলেই সমস্যা মেটানোর পথে হাঁটা সম্ভব।