নতুন তিনটি কৃষি আইনের বিরুদ্ধে পথে নামল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, অধীর চৌধুরী ও গুলামনবি আজাদ রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে দেখা করেন। কংগ্রেস প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির হাতে একটি স্মারকলিপি তুলে দেন। তাঁরা দাবি করেন, তাঁদের কাছে ২ কোটি কৃষকের সই রয়েছে, যাঁরা কেন্দ্রের নতুন তিনটি কৃষি আইনের বিরোধিতা করেছে। স্বাক্ষরকারীদের দাবি অবিলম্বে নতুন তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে হবে। কংগ্রেস প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। অন্যদিকে কিছুটা সুর চড়িয়ে নতুন কৃষি আইনের বিরুদ্ধে সরব হন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। 

কংগ্রেস কৃষি আইন বাতিলের দাবি জানিয়ে রাষ্ট্রপতি ভবনের উদ্দেশ্যে একটি মিছিল করে। কিন্তু রাষ্ট্রপতি ভবনের সামনে মিছিল থামিয়ে দেয় দিল্লি পুলিস। তার প্রতিবাদ করেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বিরোধী মতামত সহ্য করতে পারে না। কেউ যদি বিরুদ্ধ মত পোষণ করে তবে তাদের সন্ত্রাসবাদী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তিনি আরও বলেন দিল্লির উপকণ্ঠে চলা কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে তাঁরা এই পদযাত্রা করছেন। দেশের নির্বাচিত সাংসদের কেন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে বেগ পেতে হবে তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এরপরই দিল্লি পুলিশ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কংগ্রেস নেতা কর্মীদের আকট করে। 

অন্যদিকে রাহুল গান্ধী অধীর চৌধুরী ও গুলাম নবি আজাদ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে কৃষি বিল প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। তিনি আরও একবার বলেন আন্দোলনকারী কৃষকরা স্পষ্ট করেই জানিয়ে দিয়েছেন, তিনটি কৃষি আইন বাতিল না হলে তারা কিছুতেই বাড়ি ফিরবে না। আইন প্রত্যাহের বিষয়ে কেন্দ্রের চিন্তা করা প্রয়োজন বলেও জানিয়েছেন তিনি। এদিনও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে সরব হন রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন প্রধানমন্ত্রী শুধুমাত্র পুঁজিপতিদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্যই আইন এনেছেন। তিনি মনে করিয়েদেন এই কথা বলেছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রধান মোহন ভাগবত। গণতান্ত্রিক পদ্ধতি না মেনেই বিল পাশ করানো হয়েছিল হয়েছিল সংসদে, তেমনই অভিযোগ করে কংগ্রেস। পাশাপাশি বিল নিয়ে আলোচনার জন্য সংসদে একটি যৌথ অধিবেশনেরও দাবি জানিয়েছেন রাহুল গান্ধীরা।