সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের লড়াইয়ের উপযুক্ত রাখার জন্য তাদের আরও শক্তিশালী করা হবে বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পুলওয়ামার হামলার পর থেকে বিরোধী দলগুলির বিরুদ্ধে বারবার বাহিনীর সদস্যদের অপমান করার অভিযোগও করেছেন বিজেপি নেতারা। কিন্তু এবার সিআরপিএফ বাহিনীর সদস্যদের রেশনের টাকাই বন্ধ করে দিল মোদী সরকার।

সারা দেশে প্রায় ৩ লক্ষ সিআরপিএফ সদস্য ছড়িয়ে রয়েছেন। কাশ্মীর থেকে উত্তরপূর্বের রাজ্যগুলি বা মাও অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে শান্তি বজায় রাখার মূল দায়িত্ব এই সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের হাতেই রয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় ভোটের সময় নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্বও তাদেরই।

প্রত্যেক মাসে মাইনের সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যেক সদস্যকে ৩০০০ টাকা করে রেশন ভাতা দেওয়া হয়। যা ব্যবহার করে তারা শিবিরের মেস-এ বা ক্যান্টিনে খাওয়াদাওয়া করেন। কিন্তু সেপ্টেম্বর মাসে সেই রেশন ভাতা দেওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সিআরপিএফ কর্তারা।

সিআরপিএফ সূত্রে খবর এই বাবদ বরাদ্দ প্রায় ৮০০ কোটি টাকা আটকে রেখেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সূত্রটির দাবি গত জুলাই মাসে মন্ত্রককে এই বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তারপর অগাস্ট ও পরে সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতেও চিঠি দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে সরকারিভাবে কোনও জবাব না দেওয়া হলেও, জানানো হয়েছে আর্থিক বৃদ্ধিতে মন্থরতার কারণেই এই টাকা এখন দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে ভারতের ইতিহাসে প্রথমবার সিআরপিএফ সদস্যদের রেশন ভাতা বন্ধ হয়ে গেল।

সিআরপিএফ-এর ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনবারেল (গোয়েন্দা) মোজেস ধিনাকরণ জানিয়েছেন, এই বছর রেশন ভাতা সামান্য বাড়ানো হয়েছে। জুলাই মাসে এরিয়ার বাবদ প্রত্যেককে অতিরিক্ত ২২,১৯৪ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। বারবার জানানোর পরেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে কেন সেই অর্থ পাঠানো হচ্ছে না, তাই নিয়ে তিনি মন্তব্য করতে না চাইলেও আশ্বাস দিয়েছেন, ওই অর্থ পেলেই ফের চালু হবে মাসিক রেশন ভাতা।

তবে এইসব কথায় বিশেষ নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না সিআরপিএফ সদস্যরা। সদর দফতরে দেশের নানা প্রান্ত থেকে এই বিষয়ে আতঙ্কিত সদস্যদের ফোন আসছে বলে জানা গিয়েছে। এক রদস্থ সিআরপিএফ কর্তা জানিয়েছেন বিরুদ্ধ পরিবেশে কাজ করতে হয় সিআরপিএফ-কে। এই অবস্থায় রেশন ভাতা বন্ধ হওয়ায় পেলে তাদের চাঙ্গা রাখাই সমস্যার হয়ে দাঁড়াচ্ছে।